RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১৪ ১৪২৭ ||  ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘একটা কম্বল পাইলি ভালো হয়’

কাঞ্চন কুমার, কুষ্টিয়া || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:২০, ৪ ডিসেম্বর ২০২০  
‘একটা কম্বল পাইলি ভালো হয়’

সারাদিন থাকে রেলওয়ে ষ্টেশনে। ঘর নেই। থাকার কোনো জাায়গা নেই।  খাবার ও কাপড়ের জন্য হাত পাততে হয়।  এছাড়া শহরের আনাচে কানাচে রয়েছে ছিন্নমূল মানুষ। যাদের এই শীতে নেই লেপ, কাথা কিংবা কম্বলও। প্রতি বছর শীত আসলে তাদের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় সরকারসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতারা। 

কুষ্টিয়া শহরের কোর্ট স্টেশন, মজমপুর বাসস্টান্ড, কুষ্টিয়া স্টেশন, রেলওয়ের ধারের বস্তি, লালন শাহ মাজার এলাকা, শহরের এরশাদ নগরসহ শহরের অলিতে গলিতে এসব ছিন্নমূল মানুষের বসবাস। দিন শেষে যেখানে রাত হয়, সেখানেই কোনমতে রাত পার করেন তারা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৯ সালে কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলায় পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ৩২ হাজার ৭০০ পিস শীতবস্ত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক শহরের প্রায় দুই হাজার ছিন্নমূল মানুষকে রাতে  গিয়ে শীতবস্ত্র দিয়েছেন।

বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া তথ্য মতে, কুষ্টিয়ার শহর, বিভিন্ন রেলওয়ে ষ্টেশন, লালন শাহ মাজার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৮ হাজার ছিন্নমূল মানুষের বসবাস। 

কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে এসব ছিন্নমূল অসহায় মানুষদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায় এখানো তাদের কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।

কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে থাকা মেহেরন বলেন, শীতের রাতে থাকতে খুব কষ্ট হয়।  লেপ নেই, কম্বল নেই। একটা লেপ বা কম্বল হলে খুব ভালো হতো।

জোমেলা খাতুন নামের আরেকজন ভিক্ষুক বলেন, ‘একটা বেটা (ছেলে) ছিলো মইরি গিছে। দোর দোর চিয়া (চেয়ে) খাই। ঘর নাই এই ইস্টিশনে থাকি। একটা কম্বল পাইলি তো খুব ভালো হয়।’

বাতাশী খাতুন বলেন, ‘আমি আর আমার মা দুজন এই স্টেশনেই থাকি। গতবার রাতে কয়েকজন লোক এসে কম্বল দিয়েছিলো একটা। এবার কেউ দিতে আসেনি এখনো।’ রেললাইনের ধারের বস্তির বাসিন্দার আছিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘শীতের জন্য কম্বল দেয়, সেটা স্টেশনে যারা থাকে তাদের।  তবে আমরা বস্তির মানুষ, বাড়িঘর ভেঙে দিয়েছে, আমরা কষ্টে থাকি এই শীতে আমাদের কেউ দেখে না। স্টেশনে দেয় আর মজমপুরে দেয় মাঝে বস্তির দিকে কেউ আসে না।’

জাকের হোসেন নামের একজন বলেন, ‘এই অচল নিয়ে সারাদিন ভিক্ষা করি। এই শীত খুবই কষ্ট হয়। শীতের কাপড় নিয়ে তো কেউ দিলো না।’

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, যে শীতবস্ত্র আসে তা ছিন্নমূল মানুষের তুলনায় অনেক কম। লুকিয়ে লুকিয়ে ছিন্নমূল মানুষদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে শীতবস্ত্র দিয়ে আসতে হয়। যেমন ১০০ জন ছিন্নমূল মানুষ, শীতবস্ত্র ২০টা, সেখানে আমরা তো সবাইকে দিতে পারবো না।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন মানবাধিকারকর্মী বলেন, তালিকাভুক্ত জেলার অনেক সংগঠন রয়েছে যারা ছিন্নমূল মানুষের পাশে নামমাত্র দাঁড়ায়। এদের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তবে জেলায় কিছু ব্যক্তি আছেন যারা নিরবে এসব মানুষকে সহায়তা করেন।

আলো সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময়ে অসহায় দুস্থ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সহযোগিতা করি।  গত বছরও আমার শীতবস্ত্র দিয়েছি। এবারও সাধ্যমতো পৌঁছে দেব।’

কুষ্টিয়া জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মুরাদ হোসেন বলেন, ‘জেলায় কতজন এমন ছিন্নমূল মানুষ আছে- এর সঠিক তথ্য নেই। তবে বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আমরা তাদের সহযোগিতা করি। ’

এবারও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুৎফুন নাহার বলেন, শীতকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র দিয়ে থাকি। এছাড়া জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার মাধ্যমেও জেলাব্যাপী  অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করি। এবারও আশা করছি শীতবস্ত্র অসহায়দের দেওয়া হবে।

ঢাকা/সাইফ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়