RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২০ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৬ ১৪২৭ ||  ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

৫০ হাজার শীতার্ত মানুষের জন‌্য বরাদ্দ ১৭০০ কম্বল

শাহীন আনোয়ার, মাগুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:০২, ৪ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১০:২৯, ৪ ডিসেম্বর ২০২০
৫০ হাজার শীতার্ত মানুষের জন‌্য বরাদ্দ ১৭০০ কম্বল

শীতে কাঁপছে মাগুরা। রাতে কুয়াশা পড়ছে। মাঝে মাঝে সূর্যের দেখা মিলছে না। শীত নিবারণের জন‌্য হতদরিদ্র মানুষগুলোর গরম কাপড় নেই বললেই চলে। এরকম পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে এ জেলায় চাহিদার তুলনায় অনেক কম কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরার চারটি উপজেলার ৩৬টি ইউনিয়নে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। কিন্তু সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে মাত্র ১ হাজার ৭০০টি কম্বল বরাদ্দ করা হয়েছে। এত অল্প কম্বল বিতরণ করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা। সামান্য কম্বল নিয়ে বিপদে পড়তে চাচ্ছেন না ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা। তাই অনেকে এখনও কম্বল গ্রহণ করেননি।

সূত্র জানায়, ২০১১ সালের আদমশুমারি ও গৃহগননা অনুযায়ী, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলায় জনসংখ্যা ৯ লাখ ১ হাজার জন। 

সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রাবেয়া বেগম বলেন, ‘এই ইউনিয়নে দরিদ্র শীতার্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। শীতের কাপড় কেনার মতো সামর্থ্য তাদের নেই। অথচ সরকারিভাবে মাত্র ৪৭টি কম্বল পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদে ১৩ জন সদস‌্য আছেন। প্রত্যেককে নিজ নিজ এলাকায় বিতরণের জন্য তিনটি করে কম্বল দিলে আমার ভাগে পড়ে মাত্র ৮টি। কাকে ছেড়ে কাকে কম্বল দেওয়া যায়। দুস্থ লোকজন গরম কাপড় ও কম্বলের জন্য ইউপি কার্যালয়ে ভিড় করছে।’ একই চিত্র অন‌্য উপজেলার ইউনিয়নগুলোতেও।

মহম্মদপুর উপজেলা সদরের বাঐজানি গ্রামের বৃদ্ধ আশরাফ মিয়া (৭৫) বলেন, ‘তুমরা জাড়ের (শীত) খবর নিচ্ছ ক্যা? গরম কাপুড় দিবা? বাজান কম্বল আলি আমারে এটটা দিও।’
মাগুরা সদরের সব্দালপুরের বৃদ্ধা আমেনা বেগম (৬৮) বলেন, ‘গত বারের কম্বলডা পুরোন হয়ে ছিড়ে গেছে। ইবারতো শীত চলে আলো, কেও কোনো খবর নিলো না।’

সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে কমপক্ষে ৫০০ কম্বল প্রয়োজন। মাত্র ৫টি কম্বল নিয়ে কী করব, বুঝতে পারছি না। প্রতিদিনই লোকজন ভিড় করছে। তাদের কোনোভাবেই বিশ্বাস করানো যাচ্ছে না যে, সরকারি বরাদ্দ কম।’

শ্রীপুর উপজেলার তালখড়ির আরেক ইউপি সদস্য নওশের আলী জানান, তার নির্বাচনী এলাকায় ৪০০ দরিদ্র মানুষ শীতে কষ্ট পাচ্ছে। শীতের কাপড় কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। সরকার মাত্র ৫টি কম্বল বরাদ্দ দিয়েছে।

মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামানন্দ পাল জানান, আটটি ইউনিয়নের জন্য মাত্র ৫০টি কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিতরণের জন্য এগুলো ইউনিয়ন পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আরও কম্বল চাওয়া হয়েছে।

মাগুরা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নূরুজ্জামান জানান, ‘শীতবস্ত্র চেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, ‘মাগুরায় এখনও সেভাবে শীত পড়েনি। তবু শীতবস্ত্রের পাশাপাশি নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’


 

ঢাকা/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়