RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৯ ১৪২৭ ||  ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘ভোটের সময় খোঁজ থাকে, শীতে নয়’

নজরুল মৃধা, রংপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:০৭, ৪ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১০:৪৫, ৪ ডিসেম্বর ২০২০
‘ভোটের সময় খোঁজ থাকে, শীতে নয়’

রেললাইনের পাশেই রেল বস্তি। শীতে কষ্টে আছেন বস্তির বাসিন্দারা 

গরমকালই আমাদের জন‌্য ভালো। শীতে আসলে কষ্ট। টাকার অভাবে ভালো জামা-কাপড় কিনতে পারি না। কম্বল কিনতে পারি না। জনপ্রতিনিধিরাও আসে না। খোঁজ নেই না। তাদের দেখা পাওয়া যায় শুধু ভোটের সময়। শীতে বস্তির মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।’

কথাগুলো বলছিলেন রংপুর নগরীর টিবি হাসপাতাল বস্তির বাসিন্দা ইউনুস আলী (৫৫)। শুধু তিনি নন, তার মতো বস্তির অনেকেই একই কথা জানালেন। 

ইউনুস আলী বলেন, ‘নগরীতে সব জায়গার মানুষ সরকারিভাবে সাহায্য সহযোগিতা পায়। কিন্তু আমি  কখনও কোনো সরকারি সহযোগিতা পাইনি।

একই বস্তির খয়বর আলী (৫২) বলেন, ‘সিটি করপোরেশন পর্যায়ে সরকার থেকে যে সহযোগিতা আসে তার কোনোটাই আমরা পাই না।’
নগরীর টিবি হাসপাতাল বস্তির ইউনুস আলী, খয়বর আলী ও মেহেরুন খাতুনের মতো অন্যান্য বস্তির মানুষও এভাবে সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার কথা জানান। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম ফুলু বলেন, ‘সরকার থেকে সিটি পর্যায়ে যেসব সহযোগিতা আসে বস্তিসহ সব স্তুরের মানুষের মধ্যে সমানভাবে দেওয়া হয়।’

রংপুর সিটি করপোরেশনের বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা সেলিম মিয়া জানান, নগরীর পুরাতন ও নতুন ওয়ার্ড মিলে ছোট বড় ১৩৭টি বস্তি আছে। এতে ৪০টি বস্তিতে গড়ে ৫ হাজার বাসিন্দা বসবাস করেন। বাকি বস্তিগুলোতে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবার বাস করে। এসব বস্তির উন্নয়নের জন্য বছরে বরাদ্দ থাকে ৬৮ লাখ টাকা। যা দিয়ে ড্রেন, শৌচাগার এবং নলকূপসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। নগদ অর্থ তাদের ভাগ্যে জোটে না।

নগরীর মণ্ডলপাড়া বস্তির হাসু মিয়া বলেন, ‘ভোটের সময় মানুষ বস্তিতে ভিড় করে। ভোট বের হলে আর খোঁজ করে না।’

বস্তিতে বসবাসকারীদের কেউ দিনমজুরের কাজ করেন, কেউ রিকশা চালান, কেউবা ভ্যান চালান। আবার নারীরা অন‌্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এম এ রাজ্জাক মণ্ডল বলেন, ‘উন্নয়নের  দিক থেকে বস্তিগুলো পিছিয়ে আছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেদিকে নজর দিতে হবে।’

সমাজকর্মী শাহাবুদ্দিন হিরা জানান, নগরীতে আদর্শবস্তি,  বাবুপাড়া রেলবস্তি, মণ্ডলপাড়া রেলবস্তি, ছিন্নমূল বস্তি, রবার্টসনগঞ্জ বস্তি, লালবাগ বস্তি, তাঁতিপাড়া বস্তি, সাজাপুর বস্তিসহ আরো অনেক বস্তি আছে। কিছু বস্তিতে মানুষ গিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করেন। বিশেষ করে সেখান শৌচাগার সমস্যাটাই বেশি। 

এ বিষয়ে তাজহাট উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক শারমিন আক্তার জানান, প্রসাব বা পায়খানা লাগলে দ্রুত যাওয়া উচিত। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলে নানা রোগ হতে পারে।
 
রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) প্যানেল মেয়র মাহামুদুর রহমান টিটু জানান, রসিক থেকে বস্তি উন্নয়নে বছরে ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বস্তির সমস্যা নিয়ে তালিকা দিলে সেই অনুপাতে কাজ করা হবে। 

ঢাকা/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়