Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২৮ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ১৩ ১৪২৮ ||  ১৬ জিলহজ ১৪৪২

মানিকগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস রোববার

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫৯, ১২ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:২৯, ১২ ডিসেম্বর ২০২০
মানিকগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস রোববার

আগামীকাল ১৩ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে এ দিনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দিয়ে হানাদার বাহিনীর সদস‌্যরা ঢাকার দিকে ফিরতে শুরু করে। মুক্তিকামী মানুষের কাছে এ বার্তা পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে যেন নতুন সূর্যোদয়ের আর্বিভাব হয়।

এদিনেও সদর উপজেলার মানরা নামক জায়গায় পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধারা। এ যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর সেনারা ছাড়াও দুই জন মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন। পরের দিন ১৪ ডিসেম্বর দেবেন্দ্র কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে তৎকালীন এমএলএ মাজাহারুল হক চাঁন মিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন।

একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্রাক-ডাউনের খবর পাওয়ার পর পরই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য মানিকগঞ্জে তৎকালীন এমএলএ খন্দকার মাজাহারুল হক চাঁন মিয়াকে চেয়ারম্যান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, মো. মোসলেম উদ্দিন খান হাবু মিয়া, ক্যাপ্টেন ( অব.) আবদুল হালিম চৌধুরী, খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, সৈয়দ আনোয়ার আলী চৌধুরী, মীর আবুল খায়ের ঘটু, মফিজুল ইসলাম খান কামাল। 

২৫ মার্চ রাতে মানিকগঞ্জের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রস্তুতি শুরু হয়। মুক্তিকামী মানুষ ট্রেজারি থেকে ছিনিয়ে নেয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ। পরদিন থেকে ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীর আলুর গুদামের পেছনে শুরু হয় অস্ত্র প্রশিক্ষণ। ওই দিনই জেলা কমান্ড কাউন্সিল সদস্যরা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য শপথ গ্রহণ করেন।

২৫ মার্চ মুক্তি বাহিনীর পক্ষ থেকে আরিচা ফেরিঘাট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হেলিকপ্টারে করে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি সেনা মানিকগঞ্জ শহরে ঢুকে পড়ে। ভারত থেকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রতিরোধ শুরু করেন।

পাকিস্তানি বাহিনী, আল-বদর, আল-শামস, রাজাকারদের আক্রমণ, ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে মানিকগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা ২টি ব্যানারে কাজ করেন। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের সব কাজই অস্থায়ী সরকারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্বে চলে।

১৭ জুলাই ঘিওর থানা আক্রমণ করে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের আহত করে হস্তগত করেন অস্ত্র ও গোলাবারুদ। ১৮ আগস্ট পাকবাহিনী হরিরামপুর থানায় প্রবেশ করলে মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পিছপা হতে বাধ্য হয়। ১৩ অক্টোবর সিও অফিসে সংরক্ষিত হানাদার বাহিনী ক্যাম্প দখলের জন্য মুক্তিবাহিনী আক্রমণ করলে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজিত হয়। এখানে হানাদার বাহিনীর ৭০টি রাইফেল ৩টি এলএমজি ও ৭ বাক্সগুলি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আসে। ক্যাম্প দখলের পর সেখানকার ওয়্যারলেস অফিস পুড়িয়ে দেওয়ার সময় আগুনে পুড়ে শাহাদাৎ বরণ করেন মুক্তিয়োদ্ধা মাহফুজুর রহমান।

মানিকগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তান বাহিনীর বেশ কয়েকটি যুদ্ধ হয়েছে। ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী গ্রামে ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর হানাদার বাহিনী হামলা চালিয়ে তেরশ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমান এবং শিক্ষানুরাগী তেরশ্রী গ্রামের জমিদার সিদ্ধেশ্বর রায় প্রসাদ চৌধুরীসহ ৪৩ জন গ্রামবাসীকে হত্যা করে।

মুক্তিযুদ্ধে মানিকগঞ্জে শহীদ হন ৫৮ জন মুক্তিযোদ্ধা। আহত হন অনেকে। এ সময় হত্যা করা হয় স্বাধীনতাকামী প্রায় কয়েক হাজার মানুষকে। এ জেলার চান জন মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীকের খেতাব পান। খেতাবপ্রাপ্তদের মধ্যে স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) বদরুল আলম (বীর প্রতীক), ইব্রাহীম খান (বীর প্রতীক), শহীদ মাহফুজুর রহমান (বীর প্রতীক) ও মোহাম্মদ আতাহার আলী খান (বীর প্রতীক)।

জেলায় উপজেলাগুলোতে অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বর থেকে পাকিস্তানি সেনারা ক্যাম্প ছেড়ে চলে যেতে থাকেন। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে জেলা থেকে ১৩ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীরা চলে গেলে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। 
দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছর ১৩ ডিসেম্বর থেকে ১৫ দিনব্যাপী বিজয় মেলা উদযাপন করা হয়। এ বছর করোনার কারণে বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

জাহিদুল হক/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়