RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||  ফাল্গুন ১২ ১৪২৭ ||  ১২ রজব ১৪৪২

করোনাকালে নতুন সাজে হবিগঞ্জের প্যালেস রিসোর্ট

মো. মামুন চৌধুরী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:২৯, ১৫ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১২:৪৯, ১৫ জানুয়ারি ২০২১
করোনাকালে নতুন সাজে হবিগঞ্জের প্যালেস রিসোর্ট

দ্যা প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট। করোনা মহামারিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সুবিধা রেখে রিসোর্টটিকে সাজানো হয়েছে নতুন সাজে। রিসোর্টটির অবস্থান হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশেই। 

বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী বাজার থেকে দুই কিলোমিটার অতিক্রম করে বৃন্দাবন চা-বাগানের পাশের রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করা যাবে দেশের অন্যতম সুন্দর এ রিসোর্টটিতে। 

সবুজে ঘেরা পাহাড়, গিরিখাদ, সরোবর, ঝরণা আর ৩০ হাজার গাছে ১৫০ একর জমিতে সাজানো রিসোর্টের চারদিকে রয়েছে চা, আনারস, রাবার আর লেবু বাগান। দেখে মনে হবে যেন পুরো সিলেট দেখা হয়ে গেল একটি স্থান থেকেই।

বিদেশি পাইন আর সারি সারি দেবদারু সমৃদ্ধ এ রিসোর্টটি এখন পর্যটকের সব নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভ্রমণকে আনন্দময় করে তুলতে প্রস্তুত। 

রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুর রহমান জানান, নিরাপত্তাকেই এখানে সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া হয়। 

তিনি বলেন, হেলিকপ্টার এবং সড়কপথে এই রিসোর্টে আসা যাবে। কারোনাকালে অতিথিকে দেওয়া হবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। অতিথি যে গাড়িতে আসবেন, গাড়িটি রিসোর্টে প্রবেশের সময় সম্পূর্ণ স্যানিটাইজ করা হবে। অতিথির শরীরের তাপমাত্রা মাপা হবে এবং তাপমাত্রা অনুকূলে থাকলেই রিসোর্টে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। অতিথির লাগেজও স্যানিটাইজ করা হবে। সবকিছু করার পরেই অতিথিরা অভ্যর্থনা টেবিলের সামনে যেতে পারবেন। সেখানেও সামাজিক দূরত্ব মেনে অতিথিকে দাঁড়াতে হবে। স্যানিটাইজ কলম দিয়ে অতিথির নাম এন্ট্রি করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এরপর রুমের চাবি দেওয়া হবে। 

রিসোর্টের রুমগুলোতে যত আসবাব ও ব্যবহার করার উপকরণগুলো রয়েছে, একইভাবে পরিচ্ছন্ন করা হবে।

আরিফুর রহমান জানান, অতিথির জন্য রিসোর্টে বুলেটপ্রুফ বাহন রয়েছে। যার মাধ্যমে অতিথি এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে পারবেন নিমেষেই। এই বাহনগুলোও জীবাণুমুক্ত করে নেওয়া হবে। অতিথিরা রাতে পাখি, ঝিঁঝি পোকা, শেয়াল- এসবের ডাক উপভোগ করতে পারবেন। দেখতে পাবেন খরগোশের দৌড়ঝাঁপ।

তিনি বলেন, করোনার কারণে রেস্টুরেন্টে নতুনভাবে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। রিসোর্টের চারটি বড় সভাকক্ষ, ৪০০ জনের ব্যাংকুয়েট হল, ছোটদের খেলার জায়গা তিনটি, বিলিয়ার্ড, ফুটবল, বাস্কেটবল, টেনিস, রিমোট কন্ট্রোল কার রেসিং এবং সিনেপ্লেক্স সব কটি জীবাণুমুক্ত করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অতিথির জন্য। যাতে আপনি নিশ্চিত মনে সবকিছু উপভোগ করতে পারবেন আপনার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে নিয়ে।

রিসোর্টে প্রস্তুত রাখা হয়েছে হেলথ সেন্টার। অতিথির যেকোনো জরুরি শারীরিক সমস্যায় এই হেলথ সেন্টারটি ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রয়েছে নিজস্ব চিকিৎসক। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন সিলিন্ডারও মজুত রাখা হয়েছে।

মনোরম এই রিসোর্ট শরীর ও মনে প্রশান্তি এনে দেবে। রিসোর্টে একদিক থেকে জলধারা এসে পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে ইনফিনিটি পুলে। আবার সিলেটের ঐতিহ্য সবুজ শনগাছে অতিথিকে গ্রামের কথা মনে করিয়ে দেবে। স্থাপত্যশৈলীর চমৎকারিত্বের দেখা মেলে ঝুলন্ত সেতুতে।

হবিগঞ্জ/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়