Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ১৯ এপ্রিল ২০২১ ||  বৈশাখ ৬ ১৪২৮ ||  ০৬ রমজান ১৪৪২

ব্যবসায়ীকে গরু চোর অপবাদে গণপিটুনি

ভোলা সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৫, ১৬ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৮:৩৮, ১৬ জানুয়ারি ২০২১
ব্যবসায়ীকে গরু চোর অপবাদে গণপিটুনি

উন্নত চিকিৎসার জন‌্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে আহত ইয়ামিনকে

ভোলায় গরু চোর অপবাদ দিয়ে মো. ইয়ামিন (৩০) নামে এক ব‌্যবসায়ীকে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) এ ঘটনায় জড়িত থাকায় মো. আলম নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) বোরহানউদ্দিনের কুতুবা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জয়া শান্তির হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে ভোলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহের মাতাব্বরের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটলেও তিনি জনগণকে থামানোর কোনো চেষ্টাই করেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দৈউলা তালুকদার হাট বাজারে মুদি ব্যবসায়ী মো. ইয়ামিন মঙ্গলবার দুপুরে অটোবাইকে করে একিটি বাছুর নিয়ে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি জয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাতাব্বর বাড়ি যাচ্ছিলেন। 

জয়া শান্তির হাট এলাকার পদ্মা ব্রিকস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে একদল যুবক তার অটোবাইকের গতিরোধ করে। গরু চোর অপবাদ দিয়ে ইয়ামিনকে রশি দিয়ে বেঁধে ২০-২৫ জন মিলে বেধড়ক পিটুনি দেয়। হাজার কাকুতি-মিনতি করেও রক্ষা পাননি ইয়ামিন। 

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। সেসময় জানা যায় ইয়ামিন গরু চোর নয়। তাকে গুরুতর অবস্থায় বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

এদিকে শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এদিন বোরহানউদ্দিন থানায় একটি মামলাও হয়।

ইয়ামিনের বাবা সহিদুল্লাহ কাজী অভিযোগ করে বলেন, ‘ওই এলাকার মেম্বার জাহের মাতাব্বরের উপস্থিতিতে আমার ছেলেকে গরু চোর অপবাদ দিয়ে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার ছেলেকে উদ্ধার না করলে ওরা আমার ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলত। আমি ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। আমার ছেলেটি এখন মৃত্যুর সাথে লড়ছে। অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।’

কুতুবা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহের মাতাব্বর বলেন, ‘আমার এলাকার জাহাঙ্গীর চৌকিদার বাড়ির এক নারীর গরু চুরি হয়েছে। গরু চোর মনে করে ইয়ামিনকে এাটক করেছিল স্থানীয়রা। খবর শুনে আমি পরে ঘটনাস্থলে গেছি। পুলিশে খবর দিয়েছি। এখন ওরা আমার নামে মিথ্যা বলছে।’

বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল আমিন জানান, এ ঘটনায় আট জনকে চিহ্নিত ও ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে। এক নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকীদেরও আটকের চেষ্টা চলছে। 

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় ইউপি সদস্য জাহের মাতাব্বর জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মালেক/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়