RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||  ফাল্গুন ১৩ ১৪২৭ ||  ১৩ রজব ১৪৪২

ওরা সকালের নাস্তার ফেরিওয়ালা

রফিক সরকার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:২৫, ২২ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:১৯, ২২ জানুয়ারি ২০২১
ওরা সকালের নাস্তার ফেরিওয়ালা

সবাই যখন ঘুমে ওরা তখন লোহার ফ্রেমে কাঠের তৈরি চার চাকার লক্কর-ঝক্কর বেয়ারিংয়ের ছোট গাড়ি নিয়ে ছুটে চলে শহর থেকে গ্রামে। কর্মজীবী মানুষগুলোর সেবা দিতে তাদের এই চেষ্টা। ওরা সকালের নাস্তার ফেরিওয়ালা। প্রতিদিন সকাল থেকে তারা পথে ঘাটে পরোটা আর হালুয়া বিক্রি করে বেড়ায়। আর এই স্বল্প আয়েই চলে তাদের সংসার। 

কাজের চাপ। কর্মস্থলে দ্রুত পৌঁছাতে হবে, নাস্তা করার সময় নেই। তারাই এই ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে পরোটা আর হালুয়া কিনে নাস্তা করে নেন।

কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নতুন ব্যাংকের মোড় এলাকায় কথা হয় তেমনি এক নাস্তার ফেরিওয়ালা বিল্লাল হোসেনের (১৯) সঙ্গে। তিনি জানান, তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুরে। বাবা আমির হামজা শয্যাসায়ী। দুই ভাই, দুই বোন ও মা-বাবা মিলে ৬ সদস্যের সংসার। বিল্লাল সংসারের বড় ছেলে। তাই বাধ্য হয়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন তিনি। নাস্তা বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে নিজে চলেন আর বাড়িতে টাকা পাঠান।

বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘পৌর এলাকার মুনশুরপুর গ্রামে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সাত জন একসঙ্গে থাকি। সূর্য ওঠার আগেই উঠে পড়ি। সব তৈরি করে নিয়ে বেয়ারিংয়ের গাড়ি করে  রাস্তায় নামি। আমরা সাত জনই এই কাজ করি।  সকালে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ৭ পয়েন্টে আমরা চলে যাই।  আগের চেয়ে সংসার এখন ভালোই চলছে।’

এসব ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে নিয়মিত নাস্তা করেন ভাদর্ত্তী গ্রামের শহিদুল সরকার ও নান্নু মিয়া। তারা জানান, কাজের জন্য সকাল সকাল বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে হয়। তাই বাড়িতে নাস্তা করার সুযোগ হয় না। হাতের কাছে এসব নাস্তার ফেরিওয়ালাদের কাছেই খুব কম খরচে নাস্তা সেরে নেই। এতে অর্থ ও সময় দুই বাঁচে। খাবারের মানও খারাপ না। খেতেও ভালো।

একই কথা বললেন পৌর এলাকার খঞ্জনা গ্রামের সাদেকুর রহমান দুদু ও আশরাফুল ইসলাম সুরুজ খান। তারাও ওইসব ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে নিয়মিত নাস্তা করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু বিল্লাল না, এভাবে নাস্তার ফেরিওয়ালা হিসেবে কালীগঞ্জে আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ান আরও অনেকে।

শহিদুল নামে এক বিক্রেতা বলেন, ‘মানুষ নিজে ও পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে অনেক কিছুই করে। তবে সেটা ক্ষুদ্র হলেও বিশাল আত্মতৃপ্তির কারণ হয় নিজের বা পরিবারের কাছে। স্বল্প আয়ে পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে সৎ পথে চলছি।  আর দশ জনের মতো গাড়ি-বাড়ির স্বপ্ন দেখি না। পরিবারকে ভালো রাখতে আমার এই চেষ্টা।

কালীগঞ্জ, গাজীপুর/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়