Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ১৩ ১৪২৮ ||  ১৯ সফর ১৪৪৩

সরিষার ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি 

মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০১, ২৪ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৫:১৪, ২৪ জানুয়ারি ২০২১
সরিষার ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি 

এক সময় লাভ না হওয়া ও অব্যাহত লোকসান গুনতে থাকায় হবিগঞ্জের সরিষা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন চাষিরা।

কিন্তু কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এখানকার কৃষকরা আবারও সরিষা চাষে মনোযোগী হয়েছেন।  এতে গত কয়েক বছরের তুলনায় এই বছর সরিষার চাষ বেড়েছে ৩ গুণ। উচ্চফলন আর লাভের আশায় কৃষকদের মনে এখন আনন্দের জোয়ার। বিনামূল্যে পাওয়া উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা ফলনে কৃষকের প্রশান্তির হাসি দীর্ঘ হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, হবিগঞ্জে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে প্রায় ৮০০ হেক্টরে সরিষার চাষ ছিলো। এবছর কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সরিষা চাষে কৃষকরা দারুণ অনুপ্রাণিত হয়েছেন। ফলে এ বছর জেলায় সরিষার চাষ বেড়েছে ৩ গুণ। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া, উচাইল, সানাবই, চানপুর, মির্জাপুর, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা হাওর ও মাধবপুর উপজেলার পিয়াইম, আন্দিউড়া, বেজুড়া, লাখাই উপজেলার মৌবাড়িসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শত শত কৃষকরা বারি-১৪, ১৫ ও ১৭ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। হাওরের পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায়ও সরিষা চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। কৃষকদের উৎসাহিত করতে এবার হবিগঞ্জ কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে প্রায় ৩ হাজার কৃষককে (বারি-১৪-১৭-১৫-১৯ জাতের) সরিষা বীজ বিনামূল‌্যে দেওয়া হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর জেলাতে বাম্পার ফলনের আশা করছেন এখানকার কৃষকরা।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সানাবইয়ের কৃষক হাসু মিয়া জানান, সরিষা  চাষে তেমন খরচ নেই। শুধু জমি চাষের পর বীজ ছিটিয়ে দিতে হয়। তারপর গাছ বড় হলে দিতে হয় সেচ। সার বা কীটনাশক তেমন একটা দিতে হয় না। এ কারণে সরিষা চাষে অনেক লাভ। এছাড়া এলাকার অনেক চাষি উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা বীজ পেয়েছেন বিনামূল্যে। তাদের চাষে নামমাত্র খরচ হয়েছে। তাদের এই আনন্দ আরও বেশি।

সদর উপজেলার জয়রামপুরের ফরিদ মিয়া, জহুর আলী, ইদু মিয়া বলেন,  ‘এক সময় শুধু একটি ফসল ফলানো সম্ভব হতো। কিন্তু সরকারের আন্তরিকতায় এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আমরা বছরে সরিষাসহ তিন ফসল চাষ করে লাভবান হচ্ছি। তারমধ্যে এবার সরিষারও ভাল ফলন হয়েছে।’

মির্জাপুরের আমিনুল হক, চাঁনপুরের দীননাথ নিত্যানন্দ দাস বলেন, ‘আমরা এর আগে কখনো সরিষা চাষ করি নাই। কিন্তু এ বছর কৃষি অফিস থেকে আমাদের বিনামূল‌্যে সরিষা বীজ দেওয়া হয়। তাই সরিষা চাষে আগ্রহী হই। এখন দেখছি, তাদের পরামর্শ মতো চাষ করে বেশ ভালো হয়েছে। জমিতে বেশ ভালো ফলন হয়েছে। আবহাওয়া আর বাজারদর ঠিক থাকলে আমাদের ভালোই লাভ থাকবে।’

রাজিউড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজেশ আচার্য্য জানান, বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় একটির বেশি ফসল ফলানো সম্ভব হতো না। কৃষি বিভাগ ওই এলাকার কৃষককে বিভিন্নভাবে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে। ফলে এখন এখানে ধান ছাড়াও অনেক ফসল চাষ করা হচ্ছে। এসব এলাকায় এখন সরিষা, গম, ভুট্টা, টমেটো, সূর্যমুখী ফুল চাষ হচ্ছে। এতে উপকৃত হচ্ছেন সাধারণ কৃষক।

এ বছর রাজিউড়ায় প্রায় ১৫০ জন কৃষকের মাঝে ১ কেজি করে সরকারিভাবে বিনামূল্যে সরিষার বীজ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এখানে ধান চাষের চেয়ে সরিষা চাষ লাভজনক। কারণ প্রতি একর জমিতে প্রায় ১২ মণের ওপরে সরিষা চাষ হবে। আর প্রতি মণ সরিষা ৩০০ হাজার টাকা পর্যন্ত সরিষা বিক্রি করা সম্ভব। এজন‌্যই সরিষা চাষে চাষিদের আগ্রহী করে তুলতে চাষিদের বিনামূলে বীজ দেওয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. তমিজ উদ্দিন খান জানান, জেলাজুড়ে সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০০০ হেক্টর। এখানে চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর। এছাড়া, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সরকারিভাবে ৩ হাজার কৃষকের মাঝে ৩ হাজার কেজি বীজ প্রদান করা হয়েছে। তাই কৃষকরা উৎসাহিত হয়ে সরিষার ব্যাপক চাষাবাদ করেছেন। শুধু তো ধান চাষ করলে হবে না। তাই পাশাপাশি ভুট্টা, সরিষা, আলু, সূর্যমুখী ফুল,পাট, তিলসহ অন্যান্য ফসল চাষের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর এরা সুফল জেলার প্রান্তিক কৃষকরাই পাবেন।

হবিগঞ্জ/বুলাকী 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ