Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ০১ মার্চ ২০২১ ||  ফাল্গুন ১৬ ১৪২৭ ||  ১৫ রজব ১৪৪২

খুবি’র আমরণ অনশনরত দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:৫০, ২৪ জানুয়ারি ২০২১  
খুবি’র আমরণ অনশনরত দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে

টানা ছয় দিনের অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আমরণ অনশনে বসা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে মোহাম্মদ মোবারক হোসেন নোমানকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে শনিবার দুপুরের পর থেকে ইমামুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়। তবে সন্ধ্যার পর আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

এদিকে, খুবি’র দুই শিক্ষার্থীর করা আবেদনটি কর্তৃপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করার সামিল বলে মন্তব্য করেছেন কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। 

বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে দুই শিক্ষার্থীর অনশন ও তাদের আবেদন নিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো খুলনা সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ মন্তব্য করা হয়েছে।

অপরদিকে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষার্থী তাদের শাস্তি প্রত্যাহারের দাবিতে অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করছে। দাবির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন প্রতিপালন করে নিরসনের জন্য তাদেরকে নমনীয় হয়ে দুঃখ বা ক্ষমা চেয়ে শৃঙ্খলা বোর্ডের পত্রের জবাব প্রদানের জন্য কেসিসির মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনের পক্ষে উপাচার্য একাধিকবার, উপ-উপাচার্য, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালকসহ শিক্ষক এবং এলামনাইবৃন্দ তাদের কাছে যান, বক্তব্য শোনেন, বোঝান এবং পরামর্শ দেন।

সর্বশেষ মেয়র তাদেরকে এ আশ্বাস দেন যে, সেভাবে পত্র দিলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করবেন দু ’জন শিক্ষার্থীর শাস্তি প্রত্যাহারে সর্বোচ্চ সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করতে। কিন্তু ঐ দুই শিক্ষার্থী একটি পত্র দিলেও তারা সেখানে কোনোরকম দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চেয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষের জানা নেই। শিক্ষকের কাছে এরূপ কোনো ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা বা ক্ষমা চাওয়া একজন শিক্ষার্থীর জন্য শ্রদ্ধাবোধ, সৌজন্যতা ও মূল্যবোধের পরিচায়ক হলেও তা তারা করেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে অনশনরত দু’জন শিক্ষার্থীর এহেন আচরণ সত্ত্বেও বাইরের কয়েকটি রাজনৈতিক দল বা বিভিন্ন মতাদর্শের সংগঠন নিয়মবহির্ভুতভাবে রাজনীতি মুক্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অনশনরত শিক্ষার্থীদের নানাভাবে সমর্থন দিচ্ছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রকৃত ঘটনা অবহিত না হয়েই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষ নিয়ে নানা বিরূপ মন্তব্য করছেন যা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক, হতাশা ও উদ্বেগের। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, আপামর খুলনাবাসী, রাজনৈতিক দলসহ সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক সংগঠন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনীতিমুক্ত রাখতে বদ্ধপরিকর এবং তারা কখনও কোনো ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেননি। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সকল মহলের প্রতি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান সমুন্নত রেখে সমাধানে ভূমিকা রাখার জন্য দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চেয়ে পুনরায় আবেদন করার আহবান জানান।

কেসিসি মেয়রের মন্তব্য: 
বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে দুই শিক্ষার্থীর অনশন ও তাদের আবেদন নিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশন থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন শিক্ষার্থীর অনশনের খবর জানতে পেরে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক গত ২২ জানুয়ারি সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকবৃন্দকে সাথে নিয়ে অনশনরত শিক্ষার্থীদ্বয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এ সময় তিনি অনশনরত শিক্ষার্থীদের দাবি সম্পর্কে অবহিত হন। পরবর্তীতে আরো ৫ জন শিক্ষার্থী সিটি মেয়রের সঙ্গে একান্তে কথা বলতে চাইলে তিনি তাদের কথাও মনোযোগ সহকারে শোনেন।

উভয় পক্ষের কথা শুনে সিটি মেয়র অনশনরত দুই শিক্ষার্থীকে নিয়মানুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থনে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চেয়ে কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করার পরামর্শ দেন। আবেদন জমা দেয়ার পর সর্বোচ্চ সহানুভূতির সাথে বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা জীবন যেন চলমান থাকে সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাবেন বলে শিক্ষার্থীদ্বয়কে সিটি মেয়র আশ্বস্ত করেন। বিষয়টি সার্বিক তত্ত্বাবধানের জন্য সিটি মেয়র নিজ প্রতিনিধি হিসেবে কেসিসি মেয়র প্যানেল সদস্য কাউন্সিলর মো. আলী আকবর টিপু’কে দায়িত্ব প্রদান করেন।

সিটি মেয়রের আহবানে সাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীদ্বয় সিটি মেয়রের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর একটি আবেদন জমা দিলেও আবেদনে তারা দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা করেনি, যা ছিল অপ্রত্যাশিত। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সিটি মেয়র খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে শুরু করে এর বিকাশের ধারায় আজ পর্যন্ত সকল কাজে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভুত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য নিজ উদ্যোগে চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মনোভাব এবং তাদের আচরণে তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, শিক্ষার্থীদ্বয়ের আবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করার সামিল। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর বিধি-বিধান সমুন্নত রাখা সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও নিয়ম-কানুন প্রতিপালনের স্বার্থে শিক্ষকদের প্রতি নমনীয় হয়ে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা প্রার্থনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর পুনরায় আবেদন করার জন্য সিটি মেয়র অনশনরত দু’জন শিক্ষার্থীর প্রতি আবারও আহবান জানিয়েছেন। 

নূরুজ্জামান/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়