Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১ ||  ফাল্গুন ২৪ ১৪২৭ ||  ২৪ রজব ১৪৪২

মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা নবীরন খাতুন

শাহীন আনোয়ার  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫৪, ২৫ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৩:০১, ২৫ জানুয়ারি ২০২১

দশ শতক সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত হয়েছিল পাঁচ বছর আগে। কিন্তু দখল বুঝে পাননি। সেই জমি এখন অন‌্যজন কিনে নিয়েছেন। জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন নতুন ক্রেতা। সরকারি ঘরও পাননি তিনি। ষাটোর্ধ্ব ভূমিহীন বিধবা নবিরন খাতুন বিলাপ করছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। 

নবীরন খাতুনের বাড়ি মাগুরার মোহম্মদপুরের তেলিপুকুর গ্রামে। ওই এলাকার মৃত চুন্নু মিয়ার স্ত্রী তিনি। 

নবীরনের বাড়ি গিয়ে দেখা গেলো, জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরের বারান্দায় বসে আসেন তিনি। পাটকাঠির বেড়া খসে খসে পড়ছে। টিনের চালে অসংখ্য ছিদ্র। আশ্রয় নেওয়া জায়গা বিক্রি হয়ে যাওয়ায় এখন পাগলের মতো সরকারি দপ্তরগুলোতে ছুটছেন বলে জানান তিনি। 

২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ঘর নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে দশ শতক খাস জমির বন্দোবস্ত হয়। পাঁচ বৎসর পেরিয়ে গেলেও এখনও দখল পাননি। মেলেনি সরকারি সহায়তা। 

নবীরন খাতুন জানান, ১০ বছর আগে স্বামী মারা গেছে। পরের জায়গায় কোনো রকম ঘর পেতে এক ছেলে, ছেলের বউ আর দুই নাতি নিয়ে থাকেন। কখনও খাবার জোটে, কখনও জোটে না। মাটি কাটার কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। এখন বয়সের কারণে আর কাজ করতে পারেন না। তবুও ভিক্ষা করেন না। এই জমিও এখন বিক্রি হয়ে গেছে। জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। একমাত্র ছেলে শরিফুল ইসলাম ভ্যান চালান। তার সামান্য আয়ে সংসার কোনো রকম চলে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ১০ টাহার চালের এটটা কার্ডও নাই, ভিজিএফ কার্ডও নাই। বিধবা ভাতা কার্ড করার চিষ্টা করে পারি নেই। মেম্বররা কয় কার্ড বানাতি ৫-৬ হাজার টাহা লাগবেনে। আমার কাছে টাহা নাই। পরের জায়গায় থাহি। এট্টু জাগা জমি নাই। ইউএনও স্যার জমিডা দিছিল। আমার জমিডা আমারে এহন কেউ বুঝে দেয় না। অফিসি গিলি খেদায় দেয়। সরকার জাগার ঘর নাই তাগারে জমি দিচ্ছে, ঘর দিচ্ছে। আমি জমিও পালাম না, ঘরও পালাম না।’

মোহম্মদপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাবেয়া বেগম বলেন, ‘নবীরন খাতুন সরকারিভাবে জমি পেয়েছে। কিন্তু দখলে যেতে পারছে না। আমি আগের ইউএনও স্যারদের কাছে কয়েকবার গিয়েছি জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেননি।’

মোহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল বলেন, ‘আবেদন পেলে কাগজপত্র যাচাই করে জমির দখল দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ 

মাগুরা জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা নিতে মোহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বলবো।’

মাগুরা/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়