Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ০৭ মার্চ ২০২১ ||  ফাল্গুন ২২ ১৪২৭ ||  ২১ রজব ১৪৪২

টায়ার পুড়িয়ে জ্বালানি তেল, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য  

মোসলেম উদ্দিন, দিনাজপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৬:৩৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১
টায়ার পুড়িয়ে জ্বালানি তেল, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য  

হাকিমপুর প্লাস্টিক অ‌্যান্ড রাবার রিসাইক্লিন ওয়েল প্ল্যান্ট

দিনাজপুরের হিলিতে টায়ার পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে জ্বালানি তেল। ‘হাকিমপুর প্লাস্টিক অ‌্যান্ড রাবার রিসাইক্লিন ওয়েল প্ল্যান্ট’ নামের এই কারখানায় টায়ার পোড়াতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ। এই কাঠের জোগান দিতে গিয়ে উজাড় হচ্ছে বন। টায়ার পোড়ানোর কারণে ঘনকালো ধোঁয়া ও উৎকট গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। এতে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। হুমকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ‌্য। স্থানীয়রা বলছেন, অভিযোগ করার পরও প্রশাসন কোনো ব‌্যবস্থা নেয়নি।  আর প্রশাসন বলছে, কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, হিলি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছাতনী চার মাথা থেকে রাঙ্গামাটিয়া সড়কের পাশে টায়ার পোড়ানোর কারখানা গড়ে উঠেছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, টায়ার পোড়ানো কারাখানার ধোঁয়ার কারণে গাছপালা মারা যাচ্ছে। এছাড়া, উৎকট গন্ধে আশেপাশের বাসিন্দাদের দমবন্ধ হয়ে আসছে। এসব অভিযোগ এনে ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বরে শতাধিক  স্থানীয় বাসিন্দা হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও)  কাছে আবেদন করেন। অভিযোগ জানানোর ৩ মাস পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসক। এতে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকায়। 

তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই কারখানার পাশে আমার  ১ একর জমি আছে। টায়ার পোড়ানোর কারণে সেই জমির চালে দুর্গন্ধ হয়।  সেই চালের ভাত খাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে ধানগুলো বিক্রি করে বাজার থেকে চাল কিনতে হয়। একই অভিযোগ জানালেন আরেক বাসিন্দা  হাসন্দর জামানও। 

মশিউর রহমান নামের একজন বলেন, ‘কারখানার বর্জ‌্য পাশের তুলশিগঙ্গা নদীতে যাওয়ায় নদীর মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে।’

মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম বলেন, ‘কারখানার পাশে আমার জমি রয়েছে। ওখানে টায়ার পোড়ানোর কারণে চারদিকে  উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণে কোনো শ্রমিক আমার জমিতে কাজ করতে রাজি হন না। তাই বাধ্য হয়ে অল্প টাকায় জমি বর্গা দিয়ে দিয়েছি।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে ‘হাকিমপুর প্লাস্টিক অ‌্যান্ড রাবার রিসাইক্লিন ওয়েল প্ল্যান্ট’ মালিক দিপক কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে কোনো মন্তব‌্য করতে রাজি হননি। পরে বলেন, ‘আপনার কী সমস্যা সেটা বলুন। সমাধান করা হবে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ নুর-এ আলম  বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে কারখানাটিয় অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’ কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

দিনাজপুর/এনই 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়