Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১ ||  চৈত্র ৩০ ১৪২৭ ||  ২৮ শা'বান ১৪৪২

কচুরিপানা থেকে নান্দনিক পণ‌্য, যাচ্ছে বিদেশেও  

সিদ্দিক আলম দয়াল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০৬, ৬ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১০:৪০, ৬ মার্চ ২০২১
কচুরিপানা থেকে নান্দনিক পণ‌্য, যাচ্ছে বিদেশেও  

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদন পাড়া গ্রাম। এই প্রত্যন্ত গ্রামের ঘরে ঘরে ফেলনা কচুরিপানা দিয়ে তৈরি হচ্ছে হরেক রকমের ঘর সাজানোর উপকরণ।

এই গ্রামের নারীরা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফেলনা কচুরিপানা থেকে তৈরি করছেন ফুলদানি,ফুলের টব, মাদুর, ঝুড়িসহ নানান জিনিস। আর এসব নান্দনিক জিনিস তৈরি করে তাদের স্বল্প আয়ের সংসারকে তারা এগিয়ে নিচ্ছেন। 

মদনের পাড়া গ্রামের সুভাষ চন্দ্র ঢাকা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে চলে আসেন তার শ্বশুরবাড়ি ভাষার পাড়ায়। তার নেওয়া প্রশিক্ষণ কাজে লাগাতে কয়েক নারীকে প্রশিক্ষণ দেন তিনি। তারপর ভাষাপাড়া, কঞ্চিপাড়া, মদনেরপাড়া ও সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর ও তালতলা গ্রামের আড়াইশ নারীকে নিয়ে শুরু করেন এই কাজ।

এরপর থেকে ওইসব গ্রাম জুড়ে বেশ কিছু বাড়ির আঙ্গিনায় নারীরা তৈরি করছেন শুকনো কুচুরিপানা। এরপর তা দিয়ে তৈরি করেন নানান ঘর সাজানো জিনিস। ৪ গ্রামের আড়াইশ দরিদ্র নারী যুক্ত হয়েছেন এই কাজের সঙ্গে।

কলেজ পড়ুয়া হাসনা হেনা বলেন,  ‘পড়ালেখার পাশাপাশি আমি  বাড়িতে বসে এই কাজ করি। দিনে ৫/৬টা পর্যন্ত ফুলদানি তৈরি করতে পারি। তাতে আমার প্রতিদিনের আয় হয় ২শ থেকে ২৫০ টাকা।’

গৃহিনী হালিমা বেগম জানান, তার স্বামী জমিতে কাজ করেন। চলতি শীতকালীন সময়ে তার স্বামীর কাজ করা সম্ভব হয়নি। হালিমার আয়ের টাকা দিয়ে সংসার চলেছে।  এ কাজ করে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ২ থেকে ৩ শ টাকা আয় হয় তার।

এই টাকায় তাদের সংসারে যোগান দেয়। এরকমভাবে আপাতত আড়াইশ দরিদ্র নারী এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত । তাদের স্বামীর আয় রোজগারের পাশাপাশি শুকনো পানা দিয়ে তৈরি এই কাজ তাদের সংসারে উন্নতি এনে দিয়েছে। এতে খুশি গ্রামের মানুষও।

এই কাজের উদ্যোক্তা সুভাষ চন্দ্র জানান,তার পুঁজি কম। সে কারণে তিনি তার এই কাজকে সম্প্রসারণ করতে পারছেন না। পানার এই ঘর সাজানো জিনিপত্রের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বিদেশেও চাহিদা কম নয়। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে নিজের এই হস্তশিল্প কারখানাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ জানান, শুকনো পানা এক সময় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হতো। আবার গো-খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন সেই পানা দিয়ে তৈরি হচ্ছে ফুলদানিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিস। এই কাজ পেয়ে এই গ্রামের এলাকার নারীদের যেমন উপকার হচ্ছে,তেমনি এই গ্রামের তৈরি সামগ্রী দেশ থেকে রপ্তানি হচ্ছে আমেরিকায়। এটা গর্বের বিষয়।
 

গাইবান্ধা/বুলাকী

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম

Bulletলকডাউন: ১৪-২১ এপ্রিল। যা যা চলবে: ১. বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস। ২. পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না ৩. শিল্প-কারখানা ৪. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিসেবা, যেমন, কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বর্হিভূত থাকবে। ৫. ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ৬. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। ৭. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে || যা যা বন্ধ থাকবে: ১. সব সরকারি, আধাসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ২. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে ৩. শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে