Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১ ||  বৈশাখ ৪ ১৪২৮ ||  ০৪ রমজান ১৪৪২

সময় বাড়ে দফায় দফায়, কাজ শেষ হয় না বাঁধের

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৭, ৭ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৭:৫৩, ৭ মার্চ ২০২১
সময় বাড়ে দফায় দফায়, কাজ শেষ হয় না বাঁধের

নির্ধারিত সময়ের পর বর্ধিত সময়সীমা পার হলেও শেষ হয়নি হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ। এখনো অর্ধেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। 

তবে জেলার কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) নীতিমালা কমিটি বলছে- এ পর্যন্ত জেলার হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ করার কথা থাকলেও গত ২২ ফেব্রুয়ারি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে এসে কাজের ধীরগতি দেখে ৭ মার্চের মধ্যে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হলেও শেষ হয়নি কাজ।

হাওরের কৃষকরা জানান, চলতি বছরে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই কাজে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। জেলার শাল্লা, তাহিরপুর, দিরাই, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দোয়ারাবাজার, ছাতক, জগন্নাথপুরসহ সবকটি উপজেলায় বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে।  কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময় মতো কাজ শুরু করতে না পারায় পর পর দুই বার সময়সীমা বাড়িয়ে কাজ শেষ করতে পারেনি।  

সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটির বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প তৈরি করে অর্থ হাতানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।

অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সাংহাইর হাওর, কাচির ভাঙা, দেখার হাওর, খাই হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে আঞ্চলিক সড়ককে বাঁধ দেখিয়ে অনেকটি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। আবার দেখা গেছে অক্ষত বাঁধকে মেরামত করারও প্রকল্প। এবার উপজেলায় ৬০টি প্রকল্প গ্রহণ করে পাউবো কর্তৃপক্ষ। গতবছর এ উপজেলায় ৪৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বরাদ্ধ দেওয়া হয় ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।  প্রতিবছর প্রকল্প আর বরাদ্দ বাড়ে। শুধু দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নয় জেলার দোয়ারাবাজার, শাল্লা, দিরাই, জগন্নাথপুর, তাহিরপুরসহ সকল উপজেলায় পিআইসির সংখ্যা বেড়েছে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক পিআইসির সদস্যের অভিযোগ, কমিশনে মাধ্যমে এসব প্রকল্প বাড়ে।

শনির হাওরের কৃষক গোলাম সারোয়ার বলেন, হাওরের অধিকাংশ বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হচ্ছে বাঁধের কাজ। যার জন্য পর পর দুইবার সময়সীমা বাড়ালেও কাজ শেষ হয়নি। 

এদিকে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি নিয়ে শনিবার (৬ মার্চ) দুপুরে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে কাবিটা জেলা কমিটির মতবিনিময় সভায় অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, জেলার চারটি উপজেলা তাহিরপুর, শাল্লা, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজারে কাজে বেশি ধীরগতি থাকায় কাজ সময়মতো শেষ হচ্ছে না। 

এসব উপজেলায় কাজ আরোও দ্রুত গতিতে করতে লোকবল বাড়িয়ে কাজ সম্পন্ন করার উপজেলা কাবিটা কমিটিকে তাগিদ দেন তিনি। এছাড়া হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হলেই তা জনগণকে জানাতে জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে সংবাদ সম্মেলন করার নির্দেশ দেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় কাজ করতে হবে। তাহলেই হাওরের কাজ দ্রুত শেষ হবে এবং কৃষকদের স্বপ্ন সোনালী ফসল গোলায় তোলা যাবে। এ পর্যন্ত জেলায় ৬২ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে আরো ২০ কোটি টাকা অচিরেই আসবে। কাজ দ্রুত শেষ হলে পিআইসিরা বিলও পাবে।

সভায় সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের দাবি, এবার হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ প্রায় শেষ। সামান্য কিছু অংশে কাজ বাকি রয়েছে। তাদের দাবি নাকচ করে জেলা কাবিটা নীতিমালা কমিটি বলেছে, কাজ এখনো ৬০ থেকে ৭০ ভাগও শেষ হয়নি।

এ ব্যাপারে হাওর বাঁচাও আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান সভায় বলেন, আমরা জেলার অধিকাংশ বাঁধে দেখেছি কাজ এখনো অর্ধেক শেষ হয়নি। কোথাও কোথাও এখনো ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কাজ হয়েছে। যা হতাশাজনক। হাতে গোনা কয়েকটি বাঁধের কাজ প্রায় শেষের দিকে থাকলেও সেগুলোতে এখনো দুর্মুজ, ঘাস লাগানো, স্লোপ এগুলোর কিছুই করা হয়নি।   

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এসএম শহীদুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খুশি মোহন সরকার, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর-১) মোহাম্মদ সবিবুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর-২) শামছুদ্দোহা, হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজুসহ জেলার ১১ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা।  এসময় জেলা ও উপজেলা কাবিটা নীতিমালা কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর-১) মোহাম্মদ সবিবুর রহমান বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি বা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া হয়নি। 

৬ মার্চ বিকাল ৪টা পর্যন্ত জেলায় ৮২ শতাংশ বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

আল আমিন/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়