Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১ ||  বৈশাখ ৪ ১৪২৮ ||  ০৩ রমজান ১৪৪২

কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ: শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৩, ৮ মার্চ ২০২১   আপডেট: ২২:৩৩, ৮ মার্চ ২০২১
কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ: শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

কুষ্টিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান

কুষ্টিয়া শহরের প্রানকেন্দ্রে তিন একর জমির উপর স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া হাইস্কুলের ভূ-সম্পরত্তিসহ অবকাঠামো আত্মসাৎ এবং অজ্ঞাত কোটি টাকার সম্পদ আহরণের দায়ে প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান (৫৭) ও তার স্ত্রী বিলকিস রহমানের (৪৭) বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুদক কুষ্টিয়া।

সোমবার (৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) তহিদুল ইসলামের আদালতে মামলা দুটি আমলে নেওয়া হয়।

এর আগে দুদক কুষ্টিয়া জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া স্বাক্ষরিত এজাহারটি আদালতে দাখিল করেন দুদকের কৌঁশুলি অ‌্যাডভোকেট আল-মুজাহিদ মিঠু।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ৮ অক্টোবর হতে ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমানের স্ত্রী শহরের ১৭/৩ জাহের আলী সড়ক, পেয়ারাতলার বাসিন্দা বিলকিস রহমান (৪৭) জ্ঞাত আয় বহির্ভুত ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৬৪ টাকা আহরণ করেছেন। দুদক তদন্তকালে প্রশ্নের জবাবে কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি যা দুদক আইন ২০০৪ এর দ:বি: ২৬(২) এবং ২৭(১) তৎসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সুষ্পষ্ট লংঘন।  

একইভাবে প্রধান শিক্ষক সদর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত ময়েন উদ্দিন আহমেদের ছেলে মো. খলিলুর রহমান ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হতে ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট সময়কালের মধ্যে ৫২ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৯ টাকা আয়ের বৈধ কোনো উৎস দেখাতে ব্যর্থতা হয়েছেন। তদন্তকালে সদুত্তোর দিতে না পারায় তিনি স্ত্রী বিলকিস রহমানের মতই অভিন্ন ধারার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক আরও একটি মামলা করেছে দুদক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এসএম কাদরী শাকিল বলেন, ‘অনেক দেরিতে হলেও দুদকের এই পদক্ষেপে আমি খুশি। তবে দুদক কোটি টাকার সম্পত্তির যে হিসেব দিচ্ছে তার চেয়ে পরিমাণ আরও বেশি হওয়ার কথা। যাই হোক, সঠিক তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারসহ বিদ্যালয়টিকে রক্ষার দাবি করছি।’

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চিকিৎসক নেতা ডা. আমিনুল হক রতন বলেন, ‘এতদিন ধরে আমাদের চোখের সামনে তিল তিল করে বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব বিলিন হয়ে যাচ্ছিল। আমরা অনেকেই দেখেছি কিন্তু কেউই মুখ খুলে কিছু বলতে পারিনি। এই প্রতিষ্ঠানটি এখন কিছু স্বার্থন্বেষী প্রভাবশালী মহলের অর্থ আয়ের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দুদক এতদিন পর মামলাটি করলেও আমি বলতে চাই, এই প্রতিষ্ঠানটিকে লুটপাট করে এর অস্তিত্বকে যারা বিপন্নের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে তাদের সবার মুখোশ উন্মোচিত করা হোক।’

এদিকে দুদকের মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমানের মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হয়। তবে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. একে এম মুনির বলেন, ‘দুদকের মামলার বিষয়ে আমি শুনেছি। এটা প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত বিষয়। স্কুলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাছাড়া দুদক যে মামলা করেছে তার মেরিট দুর্বল। এ মামলায় শেষ পর্যন্ত কিছুই হবে না।’

কুষ্টিয়া দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ যাকারিয়া বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক তদন্তে শিক্ষক দম্পতির দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে মামলা দায়ের করেছি। সব ধরনের তথ্য উপাত্ত নিয়েই আমরা আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেছি। আমরা দেশ থেকে দুর্নীতি দমন করতে চাই।’

কাঞ্চন কুমার/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়