Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৬ মে ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮ ||  ০২ শাওয়াল ১৪৪২

কেন যাদব বাগানী একঘরে, ব‌্যবহার করতে পারছেন না টিউবওয়েল?

ইমরান হোসেন, বরগুনা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১৬, ১৪ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৭:৩০, ১৪ এপ্রিল ২০২১
কেন যাদব বাগানী একঘরে, ব‌্যবহার করতে পারছেন না টিউবওয়েল?

সমাজপতিদের রোষানলে একঘরে হয়ে যাওয়া যাবদ বাগানীর পরিবার

বাবার শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগে এনে বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের যাবদ বাগানীর পরিবারকে দুই মাস ধরে একঘরে করে রেখেছেন সমাজপতিরা। পরিবারটির সঙ্গে সমাজের  অন্যদের সামাজিক যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সরকারি টিউবওয়েল থেকে খাবার পানিও নিতে দিচ্ছেন না সমাজপতিরা। 

বদরখালী ইউনিয়নের বদরখালী গ্রামে প্রায় ছয় শত হিন্দু পরিবারের বাস। গ্রামের জদুনাথ বাগানী চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তার দুই ছেলে  যাদব বাগানী ও কেশব বাগানী। এই দুই ছেলে জদুনাথ বাগানীকে ১৯ ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়িতে পাগল চাঁদের মত অনুসারে সমাধিস্থ করেন। আর এতেই ক্ষেপে যান সমাজপতিরা।  তারা  যাদব বাগানীকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেন। 

এই প্রসঙ্গে যাদব বাগানী বলেন, ‘ধর্মীয় সব নীতি মেনেই  বাবাকে সমাহিত করেছি।  আমাদের ধর্মগুরুও তখন উপস্থিত ছিলেন। সবার সামনেই সব নীতি মেনেই বাবাকে সমাহিত করেছি।  আমার ধর্ম আমি পালন করবো, সেখানে কেন অন্যেরা বাধা দেবেন? আমি তাদের হাতে-পায়ে ধরেছি। তাও আমার কথা তারা শোনেননি।  আমাকে কেন সরকারি টিওবয়েলের পানি আনতে দেবে না?’

যাদব বাগানীর স্ত্রী মনিষা রানী বলেন, ‘পাগল চাঁদ গুরুর শিষ্য আমাদের এখানে খুব কম। কিন্তু আমরা তো ভালো লাগার জায়গা থেকে ধর্মগুরুকে পছন্দ করেছি। তাতে  অন্য গুরুর শিষ্যরা আমাদের ওপর নির্যাতন করছেন।’

এ বিষয়ে পাগলচাঁদ সেবাধর্ম সংঘের সাবেক সভাপতি দেবসাস কবিরাজ বলেন, ‘সমাজকে সংস্কার করাই হলো পাগলচাঁদ সেবাধর্ম সংঘের কাজ।  যাদবদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। আমি বলেছিলাম সমাজপতিদের, আপনারা ধর্মগ্রন্থ নিয়ে আসুন, আমরা আলোচনা করি। তবে তারা আসেননি। তারা এখানে সংখ্যায় বেশি। তাই নিজেদের মতোই তারা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন।’

এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন সমাজপতিদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এই পরিবারটি সনাতন ধর্মকে অপমান করেছে। তাই তাদের একঘরে করে রাখা হয়েছে।

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুখরঞ্জন শীল বলেন, ‘একটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করার কোনো ধর্মীয় বিধান নেই। যদি কোনো পরিবার অন্য ধর্মও গ্রহণ করে তাহলেও তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা যাবে না। এটা অন্যায়।’

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গৌড়াঙ্গ সিকদার শিবু বলেন, ‘যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। আবার একই ধর্মের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মগুরু-ধর্মযাজক থাকে বা থাকবে। কিন্তু একটি পরিবারকে এভাবে কোণঠাসা করে রাখা অন্যায়। আমি নিজেই সেখানে যাবো। সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো।’

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে সমাজচ্যুত করার বিধান কোনো ধর্মে নেই। কোনো আইনেও নেই। এমন অন্যায় যারা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এনই/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়