Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ৯ ১৪২৮ ||  ১৫ সফর ১৪৪৩

কালীগঞ্জে শ্রমিক সংকটে ধানকাটা নিয়ে শঙ্কা

রফিক সরকার, গাজীপুর  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:২৮, ১৮ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ২১:৫২, ১৮ এপ্রিল ২০২১
কালীগঞ্জে শ্রমিক সংকটে ধানকাটা নিয়ে শঙ্কা

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় এখন ধান কাটার মৌসুম। উপজেলায় ফসলের মাঠে পাকা ধান দোল খাচ্ছে। অক্লান্ত পরিশ্রমে ফলানো এই ধান কৃষকেরা এখন ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে লকডাউনের মধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক ধানকাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না সেখানে।

লকডাউনে গণপরিবহণ বন্ধ রয়েছে। তাই উত্তরবঙ্গ থেকে ধানকাটার শ্রমিক এই অঞ্চলে আসতে পারছে না। ফলে কৃষকেরা পড়েছেন বিপাকে। 

উপজেলার বিল বেলাই, ভাটিরা বিল এবং আশপাশ ঘুরে দেখা গেছে, ধান পেকে কাটার উপযোগী হলেও তা এখনও মাঠে রয়েছে। সময়মতো ধান কাটাতে না পারলে ঝড়ে নষ্ট হওয়ার বা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের উত্তর খৈইকরা গ্রামের কৃষক মো. মিরাজ (৪০) জানান, তার তিন বিঘা জমিতে ধান রয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে পারছেন না। তিনি জানান, গত বছরও ঠিক এই সময়ে লকডাউনের কারণে ধানকাটার শ্রমিক পাচ্ছিলেন না। ফলে বিঘা প্রতি ১০ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে ধানকাটার জন্য।

মো. মিরাজ বলেন, গত বছর এলাকার কৃষকেরা গ্রুপ করে একজন আরেকজনের ধান কেটে দিয়েছেন। এবারও একইভাবে ধান কাটতে হবে। দেরি হলে সামান্য ঝড়ে ধান মাটিতে পড়ে যাবে। তাড়াহুড়ো করে ধান কাটতে গিয়ে খড় আনতে না পারলে গবাদিপশুর খাবার নিয়েও চিন্তায় থাকতে হবে। 

কালীগঞ্জ পৌর এলাকার দুবার্টি গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম (৫০) জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। সেই জমির ধান পেকে গেছে। কিন্তু শ্রমিক সংকটে কাটতে পারছেন না। একই কথা জানান উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের কাজী নিজাম উদ্দিন (৪০), মোক্তারপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন (৫০) ও শাখাওয়াৎ হোসেন (৪৫)।

বেলাই বিল পাড়ের কৃষক আশরাফুল আলম আইয়ুব (৬৭) বলেন, লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় উত্তরবঙ্গ থেকে শ্রমিক আসতে পারছে না। গত বছর তাদের মাঠের জন্য গাইবান্ধা থেকে ৫০ জন শ্রমিক আনা সম্ভব হয়েছিল। এবার অনেক কষ্টে ১০ জন শ্রমিক আনা সম্ভব হয়েছে। গত বছর যে শ্রমিককে ৫০০ টাকা দিয়েছেন, এবার সেই শ্রমিককে ৬০০/৭০০ টাকা দিতে হচ্ছে প্রতিদিন।

আশরাফুল আলম আইয়ুব বলেন, ‘আমি এবার ৯ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। সেই ধান বিল থেকে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষ করে আমার লাভ থাকবে না।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিম বলেন, লকডাউনে কৃষি শ্রমিকদের চলাচলে বাধা নেই। সরকারি নির্দেশনায় তা স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে। তারা চাইলে কাজের জন্য যে কোনো স্থানে যেতে পারেন।  

/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়