Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৬ মে ২০২১ ||  বৈশাখ ২৩ ১৪২৮ ||  ২২ রমজান ১৪৪২

বোরো ক্ষেতে ‘নেক ব্লাস্ট’, ভয়ে কাঁচা ধান কাটছেন কৃষক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৫৯, ২২ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ০৯:০২, ২২ এপ্রিল ২০২১
বোরো ক্ষেতে ‘নেক ব্লাস্ট’, ভয়ে কাঁচা ধান কাটছেন কৃষক

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বোরো ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষক। আক্রান্ত জমিতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ স্প্রে করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।

অন্যদিকে এই রোগ যাতে পার্শ্ববর্তী জমিতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য আক্রান্ত ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৯ হাজার ৯শ ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকরা ২৮ ও ২৯ জাতের ধানের আবাদ করেছেন ।

দেখা যায়, ২৮ জাতের অধিকাংশ জমিতে ধানের শিষ আসার পর পরই শীষের গোড়ায় পচন ধরে কয়েক দিনের মধ্যেই ওই শীষ চিটায় পরিনত হচ্ছে। আক্রান্ত জমির ধান বাঁচাতে কৃষকরা বিভিন্ন কোম্পানির ঔষধ ছিটিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না।

২৮ জাতের ধানের চাল চিকন এবং সুস্বাদু। গত কয়েক বছর ধরেই এ জাতের ধানের আবাদ করে আসছেন এ উপজেলার কৃষক। তারা এমন ক্ষতির সম্মুখীন কখনো হননি। এ বছর আকস্মিকভাবে এ রোগ দেখা দেওয়ার পর কৃষি বিভাগের তেমন কোন পরামর্শ পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ কৃষকদের।

ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর এলাকার কৃষক আফজাল হোসেন জানান, আমি অন্যান্য ধানের পাশাপাশি শুধু ৫০ শতক জমিতে ২৮ জাতের ধান আবাদ করেছি। এই নেক ব্লাস্টে সবটাই শেষ। গাছ কেটে বাড়িতে এনেছি। যাতে অন্য জমিতে এই রোগ ছড়িয়ে না পড়ে।

একই উপজেলার বড়লই এলাকার আরেক কৃষক ফরিদ জানায়, প্রতি বিঘা জমিতে ২৮ জাতের ধান আবাদ করতে খরচ হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। অথচ এ জমি থেকে এখন খড় ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।

ফুলবাড়ী উপজেলায় কি পরিমাণ জমি নেক ব্লাস্টের রোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানাতে পারেনি স্থানীয় কৃষি অফিস। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রশিদ বললেন, আবহাওয়ার তারতম্যের কারণেই ২৮ জাতের ধান ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ছে নেক ব্লাস্ট রোগ। এ রোগ যাতে পার্শ্ববর্তী ক্ষেতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য আক্রান্ত জমির ধান দ্রুত কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এ জাতের ধান চাষে কৃষককে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ফুলবাড়ী উপজেলায় নয়, জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও কিছু ২৮ জাতের ধান ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফুলবাড়ীতে এই রোগের প্রভাব বেশি মাত্রায় দেখা গেছে।

গোলায় ধান তোলার আগ মুহূর্তে এসে ক্ষেতের ধান চিটা হয়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। এ অবস্থায় সরকারি প্রণোদনার আশা করছেন তারা।

বাদশাহ্ সৈকত/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়