Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ০৯ মে ২০২১ ||  বৈশাখ ২৬ ১৪২৮ ||  ২৬ রমজান ১৪৪২

লকডাউনে বন্ধ তাঁত পল্লী: লোকসানের শঙ্কা ব‌্যবসায়ীদের

মো. আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৩৬, ২২ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ২০:৩৭, ২২ এপ্রিল ২০২১
লকডাউনে বন্ধ তাঁত পল্লী: লোকসানের শঙ্কা ব‌্যবসায়ীদের

তাঁত শাড়ির ‘রাজধানী খ্যাত’ টাঙ্গাইলের পাথরাইলে তাঁত পল্লীতে এবারও ঈদের আমেজ নেই। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে অন্যান্য বছর তাঁতশিল্পীরা শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় সময় পার করলেও এ বছরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউন চলার কারণে ঈদ ও পহেলা বৈশাখের বাজার হারিয়েছে গত বছর। এই বছরও একই অবস্থা। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁত শাড়ি তৈরি ও ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্তরা। ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে রক্ষার জন্য বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। 

টাঙ্গাইল শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে পাথরাইল ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের গ্রামগুলোয়ো ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ি তৈরি   হয়। আড়াই শতাধিক পরিবার সরাসরি এই তৈরি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া, তাঁত ও শাড়ি উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরোক্ষভাবে দুই হাজারেরও বেশি পরিবার এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। 

শাড়ি ব্যবসায়ীরা জানান, সারা বছর  পাথরাইল এলাকায় শাড়ি তৈরি হয়। তবে ঈদ, পহেলা বৈশাখ ও শারদীয় দুর্গা পূজায় পাইকারি ও খুচরা বাজার জমে ওঠে। এই উৎসবগুলোকে সামনে রেখে প্রতি বছর নিত্যনতুন নকশার শাড়ি তৈরির করা হয়। গত বছর বৈশাখের পাইকারি বাজার যখন শুরু হবে, তখনই সারাদেশে লকডাউন শুরু হয়।  এই লকডাউন চলে রোজার ঈদের পর পর্যন্ত। ফলে গত বছর বড় দুটি উৎসবে শাড়ি বিক্রি করতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা। এররপর গত সেপ্টেম্বর থেকে পরিস্থিতি কিছু স্বাভাবিক হওয়ায় এবার ঈদ ও পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে আবারও শাড়ি উৎপাদন ও মজুদ করা হয়। কিন্তু এবার শুরু হয়েছে লকডাউন। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

সরেজমিন পাথরাইলে দেখা গেছে, পুরো তাঁত পল্লীতে নেমে এসেছে নীরবতা। নেই তাঁতীদের কোলাহল। নেই  সেই চিরচেনা তাঁত বোনার শব্দ। তাঁত পল্লীর বাড়িগুলোর বিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ। অলস সময় কাটাচ্ছেন শাড়ি তৈরির শিল্পী ও ব্যবসায়ীরা।  

টাঙ্গাইল তাঁত শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানির মালিক রঘুনাথ বসাক বলেন, ‘গত বছর ঈদ উপলক্ষে তৈরি শাড়ির ৮০ ভাগ অবিক্রিত ছিল। লকডাউন উঠে যাওয়ার পর দুর্গাপূজা ও পরবর্তী সময়ে সেই ৮০ ভাগের ৫০ ভাগও শাড়ি বিক্রি করা যায়নি। তাই এবার ঈদকে সামনে রেখে এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেক তৈরি করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখ ও ঈদের বাজার যখন শুরু হবে, তখন আবার শুরু হলো লকডাউন। ঈদের অন্তত ১৫ দিন আগে যদি লকডাউন তুলে দেওয়া হয়, তাহলে কিছুটা হলেও শাড়ি বিক্রি হবে। এর সঙ্গে যুক্তরা কষ্ট হলেও টিকে থাকতে পারবেন।’

পাথরাইল গ্রামের সীতানাথ-রঞ্জিত শাড়ি বিতানের পলাশ বসাক জানান, ব্যাংক ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী শাড়ি তৈরি করিয়েছেন। গতবার লকডাউনে বাজার হারিয়ে এই এলাকার শাড়ি উৎপাদন ও ব্যবসার সঙ্গে  যুক্তদের কোমর ভেঙে গেছে। এবার কিছুটা বিক্রি করতে না পারলে তাদের পথে বসতে হবে।

একই গ্রামের পরেশ রাজ বংশী জানান, তার নিজের সাতটি তাঁত ছিল। গত বছর লোকসানে পড়ে চারটি আর চালাতে পারছেন না। এবার তিনটি তাঁতে শাড়ি তৈরি করেছেন। এসব শাড়ি ঈদের বাজারে বিক্রি করতে না পারলে তার বাকি তাঁতগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। 

অনন্ত মণ্ডলের গত বছর ১৫ টি তাঁত চালু ছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে লোকসানে পড়ে ১০ বন্ধ রয়েছে। তিনি জানান, এবারও লোকসানে পড়লে  জীবন-জীবিকা নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে।

টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘লকডাউনের কারণে টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ির ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে পড়েছেন।’ তাঁতশিল্প বাঁচিয়ে রাখতে এর কারিগর ও ব‌্যবসায়ীদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

/এনই/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়