Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ১২ ১৪২৮ ||  ১৮ সফর ১৪৪৩

অ‌্যাম্বুলেন্স ফেলে ভিআইপির গাড়ি নিয়ে ছাড়লো ফেরি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:০১, ১৪ মে ২০২১   আপডেট: ০০:২১, ১৫ মে ২০২১
অ‌্যাম্বুলেন্স ফেলে ভিআইপির গাড়ি নিয়ে ছাড়লো ফেরি

ঈদের দিনের শেষ বিকেল। তবু, ফেরিঘাটে যাত্রী পারাপারে কমতি ছিল না। যাত্রীবাহী যানবাহনের সঙ্গে ফেরি পার হতে পন্টুনে ওঠে রোগীবাহী ঢাকাগামী একটি অ‌্যাম্বুলেন্স। কিন্তু, দায়িত্বরত লোকজন ওই অ‌্যাম্বুলেন্সকে ফেরিতে উঠতে দেয়নি। তিনটি পাজেরো গাড়ি ও একটি পুলিশ ভ‌্যান নিয়ে পন্টুন ত্যাগ করে ফেরিটি। অথচ, ফেরিতে ১০-১২টি গাড়ি একযোগে পার হয়। রোগীর স্বজন ও অ‌্যাম্বুলেন্স চালক অনুরোধ করা সত্ত্বেও ফেরিতে তোলা হয়নি অ‌্যাম্বুলেন্সটি। এমনকি, জরুরি হর্ন বাজিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (১৪ মে) পটুয়াখালীর লেবুখালী ফেরিঘাটে এ অমানবিক কাণ্ড ঘটে।

পরে জানা যায়, ওই ফেরিতে একজন ভিআইপি যাত্রী ছিলেন। তার গাড়িবহর পার করতে গিয়ে অ‌্যাম্বুলেন্সটিকে ফেরিতে নেওয়া হয়নি।

অ‌্যাম্বুলেন্স থাকা রোগী নুরুল আমিন মিথুনের খালা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘মিথুন অসুস্থ অইলে পউট্টাহালি হাসপাতালে নিই। কিন্তু অর শ্বাস বাইরা গেলে ডাক্তার অরে ঢাকায় নেতে কইছে। হেই জন্য ঢাকায় যাইতেছি। কিন্তু ফেরিতে ওঠতে পারলাম না। এহন ১ ঘণ্টা এইহানে বইয়া থাকতে অইবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ফেরিঘাটে আইলে পন্টনে উডি। কিন্তু ফেরির লোকজন মোগো ওঠতে দিলো না। মাত্র তিনডা গাড়ি নিয়ে ফেরিডা ছাইড়া দিলো। একটা অ‌্যাম্বুলেন্স নিলে ওনাগো কি ক্ষতি অইতো?’

অ‌্যাম্বুলেন্সের চালক মো. রনি বলেন, ‘অ‌্যাম্বুলেন্স নিয়ে উঠতে গেলে ফেরির লোকজন বাধা দিয়ে বলে, ভিআইপি আছে, ওঠা যাবে না।‘

এ বিষয়ে ফেরিচালক জয়দেব বলেন, ‘আমি উপরে থাকি। নিচ থেকে ছাড়ার সংকেত পেলে ঘাট ত্যাগ করি। গাড়িতে কে ছিল, আমি জানি না। সংকেত পেয়েছি, তাই ফেরি ছেড়ে দিয়েছি।’

ফেরির লস্কর বাবুল বলেন, ‘জাতীয় পার্টির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস‌্য এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার স্যার গাড়িতে ছিল, তাই ফেরি ছেড়ে দিয়েছি। তার সাথে থাকা লোকজন ছাড়ার জন্য তাগিদ দিয়েছিল। এছাড়া, ওই ফেরিতে টুরিস্ট পুলিশের একটি ভ্যান ছিল। তারাও ফেরিটি দ্রুত ছাড়তে বলেছে।’

দুমকী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘শুনেছি, ওই ফেরিতে জাপা নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার ছিলেন। ওই সময় সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস‌্য দুপুরের খাবার খেতে পাশে গিয়েছিল। এ কারণে পুরো বিষয়টি জানা যায়নি।‘

এ ব্যাপারে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের মোবাইল নম্বরে ফোন কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

পরে প্রায় ৪০ মিনিট পর ভিআইপির গাড়িবহর নামিয়ে দিয়ে ফেরিটি পুনরায় লেবুখালী নদীর পটুয়াখালীর অংশে আসলে অ‌্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য গাড়ি নিয়ে ফেরিটি ছেড়ে দেয়।

মিথুন ঈদ উপলক্ষে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়ায় মামাবাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে পটুয়াখালী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন‌্য মিথুনকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

মধ্যরাত পর্যন্ত মিথুনকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সিটি মাওয়া ফেরিঘাট পার হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিলাস/রফিক/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়