ঢাকা     বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৬ ১৪২৮ ||  ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

‘ইয়াস’ আতঙ্ক: খুলনা উপকূলে প্রস্তুত ১ হাজার ৪৮ আশ্রয়কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০০:৫১, ২৪ মে ২০২১   আপডেট: ০১:২২, ২৪ মে ২০২১
‘ইয়াস’ আতঙ্ক: খুলনা উপকূলে প্রস্তুত ১ হাজার ৪৮ আশ্রয়কেন্দ্র

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ আতঙ্কে রয়েছেন খুলনার পাঁচ উপজেলার ২ লাখ মানুষ। ঘূর্ণিঝড়টি শক্তিশালী হয়ে খুলনা উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।  এ কারণে মোংলা সমুদ্রবন্দর এলাকায় ১ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি এড়াতে খুলনা জেলার ৯টি উপজেলায় ১ হাজার ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১১৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে।

খুলনা জেলা ত্রাণ পুর্ণবাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দ্দার জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এ প্রাণহানি ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য খুলনার ৯টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১১৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে।

ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে ও জানমালের ক্ষতি প্রতিরোধে খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৩২৪টি স্থায়ী এবং স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ ৭২৪টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে কয়রায় ১১৮টি, দাকোপে ১২৩টি, ডুমুরিয়ায় ১৯টি, বটিয়াঘাটায় ১৮টি ও পাইকগাছায় পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, গো খাদ্য ও শিশু খাদ্য প্রস্তত রয়েছে। পাঁচ হাজার ৩২০ জন্য স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তত রয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় শুকনো খাদ্য ও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। ফায়ার ব্রিগেড প্রস্তুত করা হয়েছে।

এছাড়া খুলনার দাকোপ ও কয়রা উপজেলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) আগেভাগে মাইকিংয়ের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে শুষ্ক খাবার, অর্থ, চাল-ডাল প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সূত্র জানায়, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সকল সদস্য, এনজিও, সিপিপি, ফায়ার সার্ভিসসহ সকলকে যার যার মতো প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ৭টি ইউনিয়নে ১ হাজার ২৬০ জন সিপিপি কর্মী প্রস্তুত রয়েছে। দক্ষিণ বেদকাশী, উত্তর বেদকাশী, মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর ও সদর ইউনিয়নে কাল থেকে মাইকিং করা হবে। এ পাঁচটি ইউনিয়ন সব সময় দূর্যোগে ঝূঁকিপূর্ণ থাকে। আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য শুকনো খাবার ও শিশু খাদ্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২০ মে আম্ফান নামক প্রাকৃতিক দূর্যোগে খুলনা জেলায় ২ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়রা উপজেলার কয়েকটি বেড়িবাধ ভেঙ্গে যায়। আম্ফানে গাছ পড়ে ৩ জনে মৃত্যু হয়।

নূরুজ্জামান/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়