Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ১০ ১৪২৮ ||  ১৩ জিলহজ ১৪৪২

কুষ্টিয়ার ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে কী?

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৫, ১৩ জুন ২০২১   আপডেট: ২০:২৮, ১৩ জুন ২০২১
কুষ্টিয়ার ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে কী?

এএসআই সৌমেন মিত্র

কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ে প্রকাশ্যে নারী ও শিশুসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার পর স্থানীয়রা একজোট হয়ে হাতেনাতে পিস্তলসহ পুলিশের এএসআই সৌমেন মিত্রকে ধরে ফেলে। এ নিয়ে খুলনা পুলিশে তোলপাড় চলছে।  

রোববার (১৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে স্ত্রী আসমা খাতুন (৩৪), আসমার আগের ঘরের ছেলে রবিন (৪) এবং স্থানীয় বিকাশকর্মী শাকিল খানকে (২৮) হত্যা করেন সৌমেন। কিন্তু পুলিশের একজন কর্মকর্তা হয়েও ঠান্ডা মাথায় কেন তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটালেন- এই প্রশ্ন উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসমা খাতুন, তার ছেলে রবিন ও শাকিল কাস্টমস মোড়ে মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমন সময় সৌমেন এসে পিস্তল দিয়ে প্রথমে আসমাকে গুলি করেন। এরপর গুলি করেন শাকিলকে। এটা দেখে রবিন পালানোর চেষ্টা করলে তাকেও গুলি করেন। স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় ট্রিপল মার্ডার: ‘ছুটি না নিয়ে অস্ত্রসহ বের হন এএসআই সৌমেন’  

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, বেলা ১১টার দিকে গুলিবিদ্ধ নারী, শিশু ও যুবককে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাদের মৃত পান।  

নিহত শাকিল কুমারখালী উপজেলার সাওতা গ্রামের বাসিন্দা মেজবার খানের ছেলে। আসমা একই এলাকার আমির আলীর মেয়ে এবং শিশু রবিন আসমার আগের স্বামীর সন্তান। সৌমেনের সঙ্গে আসমার এটা দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। 

আসমার পরিবার এবং স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসমার প্রথম স্বামী স্থানীয় কাঞ্চনপুর গ্রামের রুবেলের সঙ্গে দেড় বছর আগে ছাড়াছাড়ি হয়। রুবেলের সংসার ছেড়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে সৌমেন মিত্রকে বিয়ে করেন আসমা। মিরপুর থানার হালসা পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত থাকার সুবাধে আসমা ও সৌমেন কুষ্টিয়া শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। পরে সৌমেন বদলি হন খুলনার ফুলতলা থানায়। এরপর রবিনকে নিয়ে আসমা ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় ট্রিপল মার্ডার: কারণ খুঁজছে পুলিশ 

কাস্টমস মোড়ে শাকিলের বিকাশের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দোকান থাকার সুবাধে আসমার সেখানে যাওয়া-আসা ছিল। এতে আসমার সঙ্গে শাকিলের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি সৌমেন জানার পর আসমাকে সতর্ক করে। এ নিয়ে আসমার সঙ্গে সৌমেনের মনোমালিন্যও হয়। 

আসমার মা হাসিনা খাতুন বলেন, আসমা দেড় বছর আগে প্রথম স্বামীকে ছেড়ে চলে এসে সৌমেনকে বিয়ে করে। আসমা ও শাকিলের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল না। তবে তারা মোবাইলে নিয়মিত যোগাযোগ করতো।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল ইসলাম জানান, আটক এএসআই সৌমেন মিত্র মাগুরা জেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে তিনি খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত। সৌমেনকে আটকের পাশাপাশি তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সৌমেন নিহত আসমা তার স্ত্রী বলে জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় নারী, শিশু ও যুবককে গুলি করে হত্যা, এএসআই আটক

ওসি সাব্বিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সৌমেনের স্ত্র্রী আসমার সঙ্গে বিকাশকর্মী শাকিলের কোনো সম্পর্ক বা আর্থিক লেনদেনের ঝামেলা থাকতে পারে। অথবা আসমা, সৌমেন ও শাকিলের মধ্যে ত্রিমুখী কোনো সম্পর্কের দ্বন্দ্বেও হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। 

পুলিশ সবগুলো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছে বলে জানান ওসি। 

কাঞ্চন/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়