Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ৩০ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ১৫ ১৪২৮ ||  ১৮ জিলহজ ১৪৪২

কুষ্টিয়া ট্রিপল মার্ডার: এএসআই বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০০:২২, ১৪ জুন ২০২১   আপডেট: ০০:৩৫, ১৪ জুন ২০২১
কুষ্টিয়া ট্রিপল মার্ডার: এএসআই বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

পরকীয়ার জেরে কুষ্টিয়া শহরে দিনে দুপরে স্ত্রী-সন্তান ও এক যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আটক এএসআই সৌমেন কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রবিবার (১৩ জুন) বিকালে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খায়রুল আলম বরখাস্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঘটনা জানার পর সৌমেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরপর তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খুলনা রেঞ্জ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের দুজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ কুষ্টিয়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

কুষ্টিয়া পুলিশ সূত্র জানায়, সৌমেন ২০১৫ সালে কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে উন্নীত হন। পরে ২০১৬ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় যোগ দেন। সেখান থেকে জেলার অন্যান্য থানায়ও কর্মরত ছিলেন।

সর্বশেষ মিরপুর থানার হালসা ক্যাম্পে ছিলেন। এরপর বাগেরহাট হয়ে খুলনা ফুলতলা থানায় যোগ দেন। হত্যাকাণ্ডে নিহত শাকিল খানের বাবা মেজবার রহমান বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় সৌমেনকে একমাত্র আসামি করে মামলার কাজ চলছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নিশিকান্ত দাস রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় জানান, নিহত আসমা খাতুনের মা হাসিনা বেগম বাদি হয়ে মেয়ে ও নাতি ছেলে হত্যার দায়ে পুলিশ সদস্য এ এস আই সৌমেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে এজাহার দিয়েছেন। এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল আলম বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে মামলা রেকর্ড হয়ে যাবে।

এর আগে রোববার (১৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ সৌমেনকে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগজিনসহ আটক করেছে।

জানা গেছে, এএসআই সৌমেনের কর্মস্থল বদলি হওয়ার পর থেকেই বিকাশ কর্মী শাকিলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান আসমা। তবে এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি সৌমেন। আসমার প্রতি ক্ষোভ জমিয়ে রাখেন মনে। সেই ক্ষোভ থেকেই দিনদুপুরে প্রকাশ্যে তিনজনকে গুলি করে হত্যা করেন সৌমেন।

স্থানীয়রা জানায়, আসমার আগের স্বামীর সন্তান ছিল রবিন। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর সৌমেনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। এরপর তারা বিয়ে করেন। কিন্তু কর্মস্থল বদলি হওয়ার পর সৌমেনকে ছেড়ে বিকাশকর্মী শাকিলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান আসমা। পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের জেরে তিনটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল। নিহতরা হলেন- এএসআই সৌমেনের স্ত্রী আসমা (২৫), তাদের ছেলে রবিন (৫) এবং পরকীয়া প্রেমিক শাকিল (২৮)। শাকিলের সঙ্গে আসমার পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে শাকিলের সঙ্গে আসমার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।

এদিকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সৌমেন রবিবার ভোরেই বাসে করে খুলনা থেকে কুষ্টিয়ায় আসেন। এ সময় তিনি তাঁর সরকারি পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিনে ১২টি গুলি সঙ্গে নিয়ে আসেন। এরপর কথা কাটাকাটি থেকে একে একে তিনজনকে গুলি করেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এএসআই সৌমেন এমন তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) ফরহাদ হোসেন খান।

পুলিশ বলছে, পিস্তল গুলি সরকারি কাজ ব্যতীত নিজ দায়িত্ব এলাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
জিজ্ঞাসাবাদে সৌমেন রায় বলেন, তাঁর স্ত্রী আসমার সঙ্গে শাকিলের সম্পর্ক ছিল। এ জন্য তিনি তাঁর স্ত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন।
সৌমেন পুলিশকে আরও বলেন, সকালে তিনি কুষ্টিয়া শহরের বাবর আলী গেটে আসমার মায়ের বাসায় পৌঁছান। এর আগে রাতেই আসমাকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে কুষ্টিয়া শহরে আসার কথা বলেন। সকালে আসমা ও তার ছেলেকে নিয়ে খুলনায় যাওয়ার কথা বললে আসমা যেতে অস্বীকার করেন।

আসমা তাকে জানান, তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না, এমনকি শাকিলের সঙ্গেও না। এ সময় তিনি শাকিলকে ফোনে শহরের কাস্টমস মোড়ে আসতে বলেন। এদিকে আসমা ছেলেকে নিয়ে রিকশাযোগে কাস্টমস মোড়ে পৌঁছায়। সৌমেনের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে প্রথমে শাকিলকে গুলি করেন তিনি। এরপর আসমাকে গুলি করেন। এ সময় শিশু রবিন দৌড়ে পালাতে গেলে তাকেও গুলি করেন। একটি ম্যাগাজিনের গুলি শেষ হয়ে গেলে আরেকটি ম্যাগাজিন ব্যবহার করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলি উদ্ধার করেছে। হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিনও জব্দ করা হয়েছে। রাতে তাকে কুষ্টিয়া ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। সোমবার (১৪ জুন) আদালতে নেওয়া হতে পারে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

কাঞ্চন/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়