Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৩ আগস্ট ২০২১ ||  শ্রাবণ ১৯ ১৪২৮ ||  ২২ জিলহজ ১৪৪২

ঝুলন্ত বাগানে বদলে গেছে ঐতিহ্যের টাউন হল

আবদুর রহমান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০৮, ২১ জুন ২০২১   আপডেট: ১৭:২৮, ২১ জুন ২০২১
ঝুলন্ত বাগানে বদলে গেছে ঐতিহ্যের টাউন হল

ঐতিহাসিক টাউন হল কুমিল্লা নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত। দীর্ঘ দিন ধরেই টাউন হল মাঠের সীমানা প্রাচীরের ভেতর ও বাইরের অংশ ছিল অবৈধ দখলে। একের পর এক নির্মিত হয়েছিল অস্থায়ী অবৈধ দোকান। অবস্থাটা এমন হয়েছিল যে, মূল গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ না করলে টাউন হলের ১৩৫ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ভবনটিও দেখা যেতো না। 

চলতি বছরের শুরুতে টাউন হল মাঠের সীমানা প্রাচীরের ভেতর ও বাইরের অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদের মাধ্যমে টাউন হলের প্রাণ ফেরায় জেলা প্রশাসন। দখলমুক্ত হওয়ার পর সিটি করপোরেশনের সহায়তায় টাউন হলকে সাজানো হয় নতুনরূপে। এতেই বদলে যায় ঐতিহাসিক টাউন হলের চিত্র। এখন শুধু ভেতরে গিয়ে নয়, সড়ক দিয়ে হাঁটা-চলার সময়ও নগরবাসী দেখতে পান, স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন টাউন হল (বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন) ভবনটি।  

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে টাউন হল দখলমুক্ত করার পর মাঠের সীমানা প্রাচীরের ভেতরের অংশে রোপণ করা হয়েছে ফুলের গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ। শুধু তা-ই নয়, টাউন দৃষ্টিনন্দন করতে সীমানা প্রাচীরের উপরের লোহার গ্রীলে করা হয়েছে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতলে দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত বাগান (গ্রিন শেডস)। ঝুলন্ত বাগানে লাগানো হয়েছে গোলাপ, পাতাবাহার, গাঁদাসহ বাহারি ফুলের চারা। আবার বপন করা হয়েছে বিভিন্ন ফুলের বীজও। এখন এসব ফুল গাছে অনেক ফুল এসেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুরু থেকেই টাউন হলকে দখলমুক্তের পর দৃষ্টিনন্দন করার অগ্রভাবে ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সাঈদ। আর বাগান তৈরির কাজে তার সঙ্গে ছিলেন ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ডিবিডি) এবং গার্ডেনারস্ লাভারস অব বাংলাদেশ’ নামের দু’টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

সোমবার (২১ জুন) সকালে সরেজমিনে টাউন হল মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ঝুলন্ত বাগানের অনেক গাছেই ফুল এসেছে। পাঁচ শতাধিক পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতলকে হলুদ ও সবুজ রঙে রাঙিয়ে বানানো হয়েছে এই ঝুলন্ত বাগান। টবগুলো দড়ি দিয়ে বেঁধে ঝোলানো হচ্ছে লোহার গ্রীলে। ঝুলন্ত বাগান ঐতিহাসিক টাউন হলটির সৌন্দর্য যেন কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। 

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কুমিল্লা নগরীর বেশিরভাগ ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়। পরে ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় নগরীর সব ফুটপাত দখলমুক্ত করার। এরপর ওই সভার সিদ্ধান্ত মতে ডিসেম্বরের শুরু থেকে নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা শুরু করে জেলা প্রশাসন। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের শুরুতে টাউন হলকেও দলখমুক্ত করা হয়। 

কথা হয় নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, কুমিল্লা নগরীর প্রাণ হলো টাউন হল। দীর্ঘ দিন ধরে টাউন হলটি অবৈধ দখলের কারণে অন্ধকারে ছিল। জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে টাউন হল দখলমুক্তের পর এখন বাগান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে টাউন হল যেন তার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এখন সড়ক দিয়ে চলাচলের সময়ও দৃষ্টিনন্দন হলের ভেতর সব দৃশ্য দেখা যায়।   

গার্ডেনারস্ লাভারস অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা জাহিদুল হাসান বলেন, ‘ইট পাথরের নগরীতে সবুজ ছড়িয়ে যাক সবার প্রাণে’ এই স্লোগানে আমরা কাজ করছি। আমরা কুমিল্লাকে সবুজের শহর হিসেবে দেখতে চাই। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ কুমিল্লা নগরীর প্রাণকেন্দ্রে আমাদের কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আমরা এর আগে আরও কয়েকটি জেলায় কাজ করেছি। পর্যায়ক্রমে সারাদেশেই সবুজের বিস্তার নিয়ে কাজ করবো।

ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার সভাপতি আবরার আল দাইয়ান বলেন, আমরা কুমিল্লাকে ‘ক্লিন সিটি-গ্রিন সিটি’ হিসেবে পরিণত করতে চাই। আমরা ও গার্ডেনারস্ লাভারস অব বাংলাদেশের সদস্যরা মিলে টাউন হলের কয়েক মাস আগে কুমিল্লা নগর উদ্যানেও একইভাবে ঝুলন্ত বাগান করেছি। আমরা চাই, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতলগুলোকে পরিবেশবান্ধব উপায়ে কাজে লাগানোর জন্য। তাই আমরা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে বোতল সংগ্রহ করে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরাই এসব ঝুলন্ত গাছগুলোকে দেখাশুনা করেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সাঈদ বলেন, কুল্লিাকে দখলমুক্ত করে একটি সুন্দর নগরী গড়তে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা ও সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় আমরা নিয়মিত কাজ করছি। কুমিল্লা নগরীর প্রাণ হলো টাউন হল। আমরা এটিকে নান্দনিকভাবে সাজাতে চেষ্টা করেছি। আর চলতি বছরের শুরুতে টাউন হল দখল মুক্ত করে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ঝুলন্ত বাগানে প্লাস্টিকের পরিত্যক্ত বোতল পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে মানুষ নিজেদের বাড়িতেও ঝুলন্ত বাগান করতে আগ্রহী হবে, পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমবে। সবার প্রিয় টাউন হলের সামনের অংশ নান্দনিক দেখতে পাওয়া, কুমিল্লার মানুষের অধিকার। আশা করি, আমাদের উদ্যোগটা কুমিল্লার মানুষের অনেক ভালো লাগবে। আমরা এটিকে পর্যায়ক্রমে আরও নান্দনিক করে তুলবো। আমাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য ওই দু’টি সংগঠনের প্রতিটি সদস্যকেও ধন্যবাদ।

কুমিল্লা/মাহি 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়