Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ১৪ ১৪২৮ ||  ১৯ সফর ১৪৪৩

আম্রপালির দাপটে ফজলির দরে পতন

মেহেদী হাসান শিয়াম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:১৫, ২৩ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১০:১৬, ২৩ জুলাই ২০২১
আম্রপালির দাপটে ফজলির দরে পতন

‘মামু ফজলি আম বাড়িতে লিয়্যা যাইছো, অ্যাজক্যা আর ভাত খাইতে হইবে না তাইহিলে’- চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ সংলাপটি বেশ প্রচলিত ।

ফজলি আমের আকার-আকৃতির বড় হওয়ায় এক একটা আমের ওজন প্রায় ১ কেজিরও বেশি হয়। একজন মানুষ যদি ওই সাইজের ফজলি আম খায়, তাহলে তার সারাদিন পেটপুরে থাকে। সে কারণে আঞ্চলিক ভাষায় ওই কথা বলেন জেলার মানুষরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রচলিত আম বাগানে প্রায় সব জাতের আমের গাছ থাকলেও বেশি পরিমাণে ফজলি জাতের আম গাছ আছে। ফলে ছোট বড় সবার কাছে পরিচিত ওই জাতের আম।

হঠাৎ আম্রপালি আমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফজলি আমের বাজারের ধস নেমেছে। যার কারণে আম ব্যবসায়ীরা হতাশায় ভূগছেন। আম ব্যবসায়ীরা বলছেন, আম্রপালি আমের মিষ্টতা ও অন্যান্য গুণাবলি থাকায় এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে ফজলি আমের দরে ধস নেমেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছেন, প্রচলিত আম বাগানে প্রায় ১৫ শতাংশ ফজলি আম গাছের আবাদ হয়।

শিবগঞ্জের কালুপুরের আম ব্যবসায়ী আ. রাজ্জাক জানান, ৪ মণ ফজলি জাতের আম এনেছি। ভোক্তাদের কাছে আম্রপালির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় ফজলি আমের কদর কমেছে। ফজলির দাম আম্রপালি আমের চাইতেও দ্বিগুণ বেশি।

তিনি জানান, বর্তমান বাজারে ফজলি আমের দাম রকমভেদে ১২০০ টাকা ১৬০০ টাকা পর্যন্ত মণ। ফ্রুড ব্যাগের ফজলি আমের মণ রকমভেদে ১৮০০-২০০০ টাকা।

শিবগঞ্জের গোপালপুর এলাকার খোকন নামের আম ব্যবসায়ী জানান, দূর থেকে সাইকেলে ৪ মণ আম আনতে প্রায় ৯শ টাকা খরচ হয়। বাজারে ফজলি আমের দর নিম্নে ১ হাজার টাকা ও ঊর্ধ্বে ১৫শ টাকা। সবমিলিয়ে এক সাইকেল আমে অর্থাৎ ৪ মণ আমে প্রায় দুই হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমান বাজারে আম্রপালি আমের মণ রকমভেদে ৩ হাজার থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

শিবগঞ্জের ধাইনগর এলাকার আম চাষি আনেসুর রহমানের কাছে ফজলি আমের আবাদ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, প্রচলিত বড় আম বাগানে ১০০ ঝাড় আম গাছের মধ্যে ৩০-৩৫ টি ফজলি জামের আম গাছের আবাদ হয়। আমার দুই বিঘার একটি আম বাগান আছে।ওই বাগান ফজলি জাতের আম গাছ দিয়ে ভরপুর।

আমবাগানি শহীদ হোসেন রানা বলেন, জেলার আম বাগানগুলোতে প্রায় ৩৫ শতাংশ ফজলি জাতের আম এখনও গাছে ঝুলছে। আম বিপণনের অবস্থা এরকম চলতে থাকলে আম চাষিরা আম চাষ বিমুখ হবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, আম্রপালি আমের গুণগত মান এবং মিষ্টতার কারণে এর চাহিদা প্রচুর। বাগান থেকেই  আম বিক্রি করা যাচ্ছে। ঘন আম বাগানগুলোতে আম্রপালি আমের চাষ বেড়েছে।

তিনি বলেন, এবার জেলায় মোট ৩৩ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। যেখানে প্রায় ২৬ লাখ গাছ রয়েছে। তার ভেতর শতকরা ১০ ভাগ ফজলি আমের গাছ রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ/টিপু

সর্বশেষ