Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ৭ ১৪২৮ ||  ১৩ সফর ১৪৪৩

‘দেখতে দেখতে চলে গেলো বাপ-দাদার ভিটা’

সিদ্দিক আলম দয়াল, গাইবান্ধা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০৬, ২৬ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১৯:১৩, ২৬ জুলাই ২০২১
‘দেখতে দেখতে চলে গেলো বাপ-দাদার ভিটা’

ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার পিপুলিয়া গ্রাম

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার পিপুলিয়া গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদীতে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত দুই দিনে ৫৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ওই এলাকার আরও তিন শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ভাঙনের মুখে পড়েছে।

ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম পারভেজ সেলিম জানিয়েছেন, পিপুলিয়া গ্রাম নদীভাঙনে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। ইতোমধ্যে শতাধিক পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।

নদীভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে একটি আদর্শ গ্রাম, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মসজিদ, একটি ঈদগাহ, কয়েকশ পরিবারের বসতভিটাসহ শত শত একর ফসলি জমি। ভাঙনের কবলে পড়া মানুষগুলো আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।

মহসিন আলী পিপুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে তার ঘরবাড়ি। আবাদী জমিও নদীর পেটে চলে গেছে। শুধু ঘরের চালের কায়েকটি টিন, কাঠ এবং চারটি গরু রক্ষা করতে পেরেছেন তিনি। গাছপালা, জমি, রান্নাঘর ও গোয়াল ঘর চোখের সামনে ভেসে গেছে নদীতে।

নদীভাঙনের হুমকির মুখে চার শতাধিক পরিবার আগেভাগেই আসবাবপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। যারা এখনও ঘর সরিয়ে নেননি, তারা আছেন আতঙ্কে। কখন ভিটেমাটি নদীতে চলে যায়, এ আশঙ্কায় রাত-দিন যাচ্ছে তাদের।

সুভাষ চন্দ্র নামের এক গ্রামবাসী বলেন, ‘দেখতে দেখতে নদীর মধ‌্যে চলে গেলো বাপ-দাদার ভিটা। ফসলি জমিও গেলো নদীতে। আমরা এখন সম্বলহীন।’

সুভাষের মতোই ওই গ্রামের দুই শতাধিক হিন্দু পরিবার এখন গৃহহীন। তারা ভরতখালী হাট এলাকায় ঠাঁই নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলম মাস্টার বলেন, ‘নদীভাঙনের কারণে এখন বসবাস করার মতো জায়গা নেই অনেক মানুষের। কে কোথায় ঠাঁই নিয়েছেন, তার ঠিক নেই। নদী আমাদের আলাদা করে দিয়েছে। নদীতে পানি বাড়লেও ভাঙন হয়, পানি কমলেও ভাঙন হয়।‘

সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম কালু বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ইতোমধ্যে গ্রামের অর্ধেকই নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পিপুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি সেন্টার স্কুল, পিপুলিয়া সরকারি আদর্শ গ্রামসহ পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হবে।’

ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর মন্ডল জানান, ‘এবারের ভাঙনে পিপুলিয়া গ্রামে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। গৃহহীন পরিবারগুলো উঁচু স্থানে অথবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার লোকজনের মাঝে জিআর ও ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নগদ অর্থসহ চাল বিতরণ করা হয়েছে।’

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে অস্থায়ীভাবে কাজ শুরু করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।’

/রফিক/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ