Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ৮ ১৪২৮ ||  ১৩ সফর ১৪৪৩

টাঙ্গাইলের ৫০০ পরিবার ভাঙন আতঙ্কে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০৫, ২৬ জুলাই ২০২১  
টাঙ্গাইলের ৫০০ পরিবার ভাঙন আতঙ্কে

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকি, কাশিল, কাঞ্চনপুর ও হাবলা ইউনিয়নের ২০ গ্রামের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ১৫টি বাড়ি, ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ঝিনাই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। 

ভাঙনের ফলে অনেকে ঘর ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে আবার শেষ সম্বল বসতভিটে হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছেন।  

বিলপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া বীরনিবাসসহ ৫ শতাধিক পরিবারের বাড়ি ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে। ভাঙন হুমকির মধ্যে রয়েছে পাকা সড়ক, খেলার মাঠ, হাট-বাজার, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝিনাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার ও বেকু দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রতি বছর এই নদী থেকে ব্যাপকহারে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। 

সরেজমিন দেখা গেছে, ঝিনাই নদীর তীরবর্তী ফুলকি ইউনিয়নের দোহার, হাকিমপুর, জশিহাটি ও একঢালা গ্রাম; কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর, দেউলী, কামুটিয়া, নর্থখোলা, কাশিল, থুপিয়া, নাকাছিম ও বিয়ালা গ্রাম;  কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কাজিরাপাড়া, বিলপাড়া, মানিকচর ও আদাজান গ্রাম এবং বিলপাড়া গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া বীরনিবাস যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

ভাঙন কবলিত কাজিরাপাড়া গ্রামের খসরু খান বলেন, ‘আমার ভিটাবাড়ি যে টুকু ছিল, সবই নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে বসবাস করার মতো জায়গাটুকুও নেই।’ 

ফুলকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ৫টি গ্রামের ১০টি ভিটাবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষকের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তবে দোহার পয়েন্টে ভাঙন কবলিত বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে।

বাসাইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, গত বর্ষায় কামুটিয়া পয়েন্টে ভেঙে যাওয়া ঝিনাই নদীরক্ষা বেড়িবাঁধটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। এছাড়াও চলতি সপ্তাহে শুরু হয়েছে দোহার পয়েন্টে বাঁধ সংস্কারের কাজ।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঝিনাই নদীর ভাঙন রোধে বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে ভাঙন কবলিত পয়েন্টে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতি বছর অস্থায়ী ভাঙনরোধে শুধু টাকাই অপচয় হচ্ছে। নদীর এই ভাঙনরোধে স্থায়ী পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। অহেতুক টাকা অপচয় ঠেকাতে নদী ভাঙনরোধের স্থায়ী প্রকল্প পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
 

কাওছার/বকুল

সর্বশেষ