Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৯ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৮ ||  ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

বাগেরহাটে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি, ক্ষতিগ্রস্ত ৫ শতাধিক ঘর

বাগেরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪৫, ৩০ জুলাই ২০২১  
বাগেরহাটে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি, ক্ষতিগ্রস্ত ৫ শতাধিক ঘর

চারদিনের টানা বর্ষণ থামলেও বাগেরহাটের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। এখনও বৃষ্টির পানি নামেনি লোকালয় থেকে। চারদিন ধরে পানির তলে রয়েছে আমন ধানের বীজতলা ও সবজিখেত।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকেল থেকে বৃষ্টির পানি নামতে শুরু করলেও জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৮৩ হাজার ৩০০ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। অন্তত ৫ শতাধিক কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে কয়েক হাজার চিংড়ি ঘের।

জেলায় সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে শরণখোলা উপজেলার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত জানান, এখনও এই উপজেলায় ৫৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। ৭৫০ হেক্টর জমির বীজতলা নষ্ট হয়েছে। সবজিখেত নিমজ্জিত রয়েছে। উপজেলার দক্ষিণ তাফালবাড়ি-মৌরাশি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বাসিন্দারা।

শরণখোলা উপজেলার পূর্বখাদা গ্রামের মমতাজ বেগম বলেন, ‘চারদিন ধরে পানিবন্দি রয়েছি। পানিতে বসতঘর, রান্নাঘর ও পায়খানা সব একাকার হয়ে গেছে। হাঁস-মুরগি, গরু সব রাস্তায় রাখতে হচ্ছে। নিজেরাই খেতে পারি না, আর গবাদিপশুকে কী খাওয়াবো?’

একই গ্রামের মুজিবুর শিকদার বলেন, ‘পানিতে এমন অবস্থা যে ঘরে থাকারও কায়দা নেই। শুধু এই বৃষ্টি নয়, প্রতি বছর তিন/চারবার পানিতে নিমজ্জিত থাকতে হয় আমাদের।’  

শরণখোলা উপজেলার উত্তর তাফালবাড়ি মৌরাশি আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, ‘তিনদিন ধরে ঘরের ভেতরে দুই ফুট পানি। আশপাশে আশ্রয়কেন্দ্রও নেই। পাশের বাড়ির বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছি।’

রামপাল উপজেলার হুরকা গ্রামের লতিফ বলেন, ‘এলাকার চিংড়ি মাছের ঘের সব ভেসে গেছে। মাছ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।’

বাগেরহাট পৌরসভার বাগানবাড়ি বস্তি এলাকার বাসিন্দা ফুলবানু বলেন, ‘মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) রাত থেকে আমাদের বস্তির ৪৫টি পরিবার পানি বন্দি। ঘরের চারপাশে পানি, রান্না ঘরে পানি। কারও কারও ঘরের মধ্যেও পানি। এই অবস্থা কয়েকদিন থাকলে পানিবাহিত রোগে আমাদের মরতে হবে।’

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন, ‘শরণখোলা উপজেলার ৯০ শতাংশ এলাকা এখনও পানির নিচে। পানিবন্দি মানুষের পাশে আমরা রয়েছি। আমরা সাধ্যমত মানুষকে খাদ্যসামগ্রী দিচ্ছি।’ তবে পানিবন্দি মানুষের জন্য আরও বেশি খাদ্য সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান এই জনপ্রতিনিধি।   

জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব উপজেলার ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করতে পারিনি। জেলায় বেশকিছু আমনের বীজতলা, সবজিখেত, রবিশস্যসহ খেত পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। পানি টানার পরে বোঝা যাবে আসলে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।’

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু করেছি। এজন্য শরণখোলায় ৫ টন, মোংলায় ৪ জন, রামপাল ১ টন এবং মোরেলগঞ্জে ২ টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কোনো মানুষ যাতে অনাহারে না থাকে, এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’  

টুটুল/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়