Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৯ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৩ ১৪২৮ ||  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি, ঘর পাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৩০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৯:১৮, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি, ঘর পাচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা

প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি লিখে উপহার হিসেবে ঘর পেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উল্যা। 

তার চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের নজরে পড়ে। তাৎক্ষণিক তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে মফিজ উল্যাকে একটি ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেন। 

মফিজ উল্যা সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তিনবারের সাবেক সফল চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের দু’মেয়াদের সভাপতি ছিলেন। 

তিনি বর্তমানে জরাজীর্ণ একটি টিনের ঘরে বসবাস করছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ৭৮ বছর বয়সী এ মুক্তিযোদ্ধা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তার ৩ ছেলে এবং ৪ মেয়ে রয়েছে। সন্তানদের আর্থিক অবস্থাও তেমন ভালো নয়। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধার ভাতা দিয়ে কোনোমতে দিনাতিপাত করছেন। বৃদ্ধ বয়সে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার সামর্থ্যও তার নেই। নিজের কষ্টের কথাগুলো একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উল্যা। 

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহার নতুন ঘরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর আগে গতকাল রোববার বিকালে দত্তপাড়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উল্যার কাছে ঘরের নকশা হস্তান্তর করেন। এসময় চিকিৎসার জন্য তাকে ২৫ হাজার টাকা নগদ উপহার দেওয়া হয়েছে। মফিজ উল্যার বাড়ির সামনের কাঁচা রাস্তাটি সলিং করে দেওয়ার ঘোষণা দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহাজাহান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উল্যা মনা বাকশাল, মো. নুরুজ্জামান, দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহছানুল কবির রিপন, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জাকির হোসেন ভূঁইয়া আজাদ ও আবদুল ওয়াহেদ মানিক।

স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যান থাকাকালীন মফিজ উল্যার সততার ঘটনাগুলো আজও মানুষের মুখে মুখে রয়েছে। তিনবার চেয়ারম্যান হয়ে তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন।

মফিজ উল্যা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বে থাকাকালীন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করেছি। নিজের জন্য অট্টালিকা কিংবা সম্পদ গড়ার চিন্তাভাবনা কখনোই আমার মাঝে কাজ করেনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। বঙ্গবন্ধু কন্যার উপহার হিসেবে দেওয়া ঘর যারা দিতে এসেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। 

মো. শাহজাহান বলেন, মফিজ উল্যা একজন সৎ জনপ্রতিনিধির উদাহরণ। দীর্ঘ দিনের জনপ্রতিনিধি হয়েও তিনি এখন জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন। এটি খুবই বেদনাদায়ক। যতদিন বাঁচেন, ততদিন যেন একটি ভালো ঘরে থাকতে পারেন, এজন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে তাকে একটি ঘর দেওয়া হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর/সারা/মাহি 

সর্বশেষ