Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১০ ১৪২৮ ||  ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

যৌতুক মামলায় সিআইডি’র এসআই কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৫৩, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১  
যৌতুক মামলায় সিআইডি’র এসআই কারাগারে

খুলনায় যৌতুক মামলায় সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিঠুন রায়কে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করলে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এর বিচারক দিলরুবা আক্তার তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

বিষয়টি বুধবার রাতে নিশ্চিত করেছেন মামলাটির বাদী পক্ষের আইনজীবী ড. মো. জাকির হোসেন।  

মিঠুন ঢাকা সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ের সাইবার শাখায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বান্দা গ্রামের অমলেন্দু রায়ের ছেলে।

আইনজীবী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মিঠুন রায়ের সঙ্গে ২০১৫ সালে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে খুলনার বাটিয়াঘাটা উপজেলার দেবিতলা গ্রামের দেবদাস বিশ্বাসের মেয়ে তিথী বিশ্বাসের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৭ সালে মিঠুন তিথীকে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ে করে খুলনা ও ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে তিথীকে নিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করেন।

একপর্যায়ে তিথী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জোরপূর্বক গর্ভপাত করান। পরবর্তীতে মিঠুনকে তিথী তার বাড়িতে স্ত্রী পরিচয়ে নিতে বললে তিনি দুই বিঘা জমি, ১০ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের দাবিতে মিঠুন পরে তিথীকে নির্যাতন ও মারধর করা শুরু করেন। পরে তিথী খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা করেন।

অ্যাডভোকেট ড. মো. জাকির হোসেন বলেন, মামলাটি আদালত তদন্তের জন্য বটিয়াঘাটার মহিলা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু মিঠুন পুলিশের প্রভাব প্রয়োগ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করেন। এরপর আদালত তিথী বিশ্বাসের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলাটি আমলে নিয়ে মিঠুনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
বুধবার মিঠুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত উভয় পক্ষের আইনজীবির শুনানি শেষে মিঠুনের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।

তিনি আরো জানান, মিঠুনের বিরুদ্ধে আরো দুটি মামলা আছে। একটি যৌতুক মামলা ও অপরটি পারিবারিক মামলা।

মামলার বাদী পক্ষে আইনজীবি ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের পিপি অলোকানন্দা দাস ও ড. মো. জাকির হোসেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন সেলিনা আক্তার পিয়া।

নুরুজ্জামান/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়