Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১০ ১৪২৮ ||  ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মাছ ব্যবসায়ীকে মঞ্চে ডেকে প্রকাশ্যে মারধর করলেন এমপি রিমন

বরগুনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৭:৫৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ০৮:০৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
মাছ ব্যবসায়ীকে মঞ্চে ডেকে প্রকাশ্যে মারধর করলেন এমপি রিমন

বরগুনার পাথরঘাটায় এক মাছ ব্যবসায়ীকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) সংসদীয় আসনের এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে পাথরঘাটা শহরে এ ঘটনা ঘটে। মারধোরের শিকার ওই মাছ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম (৩৮) জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এদিকে মারধোরের বিষয়টি রাইজিংবিডির কাছে স্বীকার করেছেন এমপি রিমন।

মারধোরের শিকার হওয়া ওই মাছ ব্যবসায়ী বুধবার রাত ১০.৩০ এর সময় মুঠোফোনে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘পাথরঘাটা শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে আজ উপজেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী পাথরঘাটা প্রিমিয়াম লীগ ফুটবল খেলায় ঢাকা থেকে বিভিন্ন ক্লাবের খেলোয়াড়দের মাইক্রোবাসে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিলেন। এই খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমন। তিনি মটর সাইকেল বহরে যে তাদের মাইক্রোর পিছনে ছিলেন তা মাইক্রোর চালক দেখেনি। এসময় পিছন থেকে একটি বাইকে ছাত্রলীগের কর্মীরা উঠে এসে গাড়ি সাইড দিতে বলেন। সরু রাস্তার এক পাশে অটো রিক্সার দখলে থাকায় সাইড দিতে কিছুটা দেরি করেছে গাড়ির চালক। এরপর রাস্তার বাম পাশে চালক গাড়ি থামিয়ে এমপি’র বহরকে সাইড দেয়। কিছুক্ষন পরে তিনি খেলোয়াড়দের নিয়ে মাঠে যান। এসময় ছাত্রলীগ নেতা মধুসহ ৭/৮ জন ছাত্রলীগ নেতা তাকে জানান, এমপি রিমন তাকে মঞ্চে ডাকছেন। এসময় তিনি মঞ্চে যাবার সাথে সাথে তাকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করেন এমপি রিমন। প্রায় এক মিনিট অসংখ্য চড় দেয়ার পরে তার পা ধরে ক্ষমা চাইতে বললেন। এ সময় মঞ্চে থাকা পাথরঘাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন (আকঁন), উপ-জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলমগীর হোসেন (দাদু), সাধারণ সম্পাদক আ্যাডঃ মো. জাবির হোসেনসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সবাই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। 

তারা কেউ-ই এমপি’র এমন আচরণের প্রতিবাদ করেননি। শেষে ওই মাছ ব্যবসায়ী তার কাছে ক্ষমা চেয়ে মঞ্চ থেকে চলে আসেন। নয়তো তাকে প্রাণে মেরা ফেলতো। মঞ্চ থেকে নামার সাথে সাথে ছাত্রলীগ নেতা মধুসহ কয়েকজন তাকে পাথরঘাটা এলাকা ত্যাগ করতে বলেন। থানায় অভিযোগ করতে গেলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘যদি গাড়ির চালক ভুল করে তবে গাড়ির চালককে সে মারধোর করতো। কিন্তু আমাকে কেন মারলো। আমি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছি। পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আমি মাছের ব্যবসা করি। আমারও একটা সম্মান আছে। কিন্তু আজ অন্তত ১০ হাজার মানুষের সামনে আমাকে মারধোর করলো। সে এমপি, অনেক ক্ষমতা তার। তাই আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারিনি। যদি আমাকে নিরাপত্তা দেয়া হয় তবে, আমি মামলা করবো।’

সেই সময়ে মঞ্চে উপস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ্যাডঃ জাবির হোসেন মুঠোফোনে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এমপি'র এমন আচরণে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ছাড়া আমার কিছু বলার নেই।’

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘নজরুল খারাপ লোক। ওর নামে মামলা আছে থানায়, তাই আমি চড় দিয়েছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মারধোর করা এমপি রিমনের অভ্যাস। তিনি নিজেই আইন হাতে তুলে নেন। প্রতি বছর এমন ঘটনা আমরা শুনে থাকি মিডিয়ার মাধ্যমে। পাথরঘাটা হাসপাতালের এক কর্মচারীকে মারধোর, এলজিইডির উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে মারধোর, শালিসের নামে এক নারীকে মারধোর করে মাথায় ময়লা দিয়ে বেঁধে রাখাসহ অসংখ্য ঘটনা বিভিন্ন সময়ে সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। তবে তার বিরুদ্ধে কথা বলার মতো কেউ নেই।’

এ বিষয়ে জানতে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তবে, মৌখিকভাবে ঘটনা জানতে পেরেছি। থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। যদি অভিযোগ দেয় তবে, তদন্ত করে আইনগত প্রক্রিয়ায় যাবেন তারা। যদি অভিযোগকারীর নিরাপত্তা দরকার হয় সে বিষয়েও উধ্র্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে আমরা ব্যবস্থা করে দেবো।’

ইমরান/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়