Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৯ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ৩ ১৪২৮ ||  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পদ্মার ভাঙনে প্রাথমিক বিদ্যালয় বিলীন 

রাজবাড়ী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৮, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১০:১৯, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

রাজবাড়ীতে পদ্মার পানি কমে যাওয়ার পর নয় দিনের ব্যবাধানে একই স্থানে ২ বার ভাঙন দেখা দিয়েছে। এবার এই ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে চরসিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সদর উপজেলার চরসিলিমপুর গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দুপুর থেকে ভাঙনে ১০০ মিটার এলাকার সিসিব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমান আলী ফকির বলেন, ‘১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল খোলার পর আমরা স্কুলের কার্যক্রম শুরু করি। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছিলো। কিন্তু ভাঙন শুরু হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তাই শিক্ষার্থী উপস্থিতি এমনিতেই কম ছিলো এতদিন। কিন্তু আজ সকালে স্কুলের বাম পাশ থেকে ব্লক সরে যাওয়ায় সেটি দাবতে শুরু করে এবং আস্তে আস্তে পুরো ভবন নদীগর্ভে বিলীনের পথে। আমাদের টিনশেট ভবনও এখন ঝুঁকির মুখে।’  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমি মো. সায়েফ জানান, ‘পাশেই আমরা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি পেয়েছি। জমির মালিক স্বেচ্ছায় স্কুলের নামে জমিটি দিতে চেয়েছেন। আপাতত সেখানে টিনশেট ঘর তুলে স্কুলের কাজ পরিচালনা করা হবে। পরে স্থায়ী ভবন তৈরি করা হবে।’ 

মিজানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান জানান, এই পদ্মার ভাঙনে এই স্কুল আজ বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে এই চরসিলিমপুর গ্রামের আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ বাস্তুহারা হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। 

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসিমা বলেন, ‘স্কুল ভবন নদীতে চলে গেলে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হবে।’ আরেক শিক্ষার্থী রুহুল বলেন, ‘স্কুল না থাকলে আমরা কোথায় পড়াশোনা করব?’ 

স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘সকালে সব ঠিকঠাক থাকলেও দুপুর থেকে যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, এতে করে আমাদের বাড়িঘর সব নদীতে চলে যাবে। আমরা গরিব মানুষ। কয়েকবার নদীতে আমাদের বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। এটাই এখন আমাদের শেষ ভরসা।’ 

একই এলাকার সালমা আক্তার বলেন, ‘পদ্মার পানি কমার পর থেকে আমরা ভয়ে ছিলাম নদীর স্রোতের জন্য। দুপুর থেকে দেখি ভাঙন। আমরা তো অসহায়। আমাদের যাওয়ার আর জায়গা নেই। আমাদের জমিজমা সব নদীতে চলে গেছে।’ 

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ সরদার বলেন, ‘নদীর পাড়ের মানুষের দুঃখ আজীবনের। ভাঙনে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাদের দেখার কেউ নেই।’   

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, ‘পদ্মায় পানি কমার ফলে বেড ম্যাটিরিয়াল সরে যাওয়ায় ব্লক ধসে যায়। আমরা ভাঙনের জায়গায় বালি ভর্তি জিওব্যাগ ফেলছি এবং আগামীকাল থেকে বালি ভর্তি জিওটিউব ফেলার কাজ করবো।’
 

সুকান্ত/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়