Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২৭ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১১ ১৪২৮ ||  ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

Risingbd Online Bangla News Portal

হাঁস-মুরগির পালক তুলে দিন চলে মনিরুলের

আব্দুল বাশির, গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:১১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১০:১৩, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
হাঁস-মুরগির পালক তুলে দিন চলে মনিরুলের

হাঁটলে দেখা যায় রাস্তার পাশে বসে এক প্রতিবন্ধী যুবক হাঁস-মুরগির পালক তুলছেন। এটা দেখে পথচারীদের কেউ না কেউ কিছু সময়ের জন্য থমকে দাঁড়ান। তাকে জিজ্ঞাসা করেন, এত কাজ থাকতে আপনি কেন এ পেশায়? তিনি প্রত্যুত্তরে শুধু চেয়েই থাকেন আর নীরব ভাষায় নিজের অক্ষমতার কথা প্রকাশ করেন।

বলছি প্রতিবন্ধী মনিরুল ইসলামের কথা। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকার ডাকবাংলা পাড়ার আফসার আলীর ছেলে। তিনি ২০০৮ সালে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে এক পায়ের শক্তি হারান। সঙ্গে শরীরের শক্তিও অনেকটা কমে যায়। ফলে এক প্রকার কর্মহীন হয়ে পড়তে হয় তাকে। অভাবের সংসারে পিতার আয় তেমন না থাকায় সংসার ভালোভাবে চলছিল না। বাধ্য হয়ে লেখাপড়া না করে মাত্র ১০ বছর বয়সে একটি পানের দোকানে কাজ নেন। বেশ কিছুদিন বেকারও থাকেন।

পরবর্তী সময়ে স্থানীয় একটি ডায়াবেটিস সেন্টারে অল্প বেতনে তিন বছর কাজ করেন। পোলট্রির দোকানে কাজ শেখার জন্য বিনা বেতনে দুই বছর কাজ করেন।  সেখান থেকে পেশা হিসেবে হাঁস-মুরগির পালক উঠানোর কাজ বেছে নেন।

এ প্রসঙ্গে মনিরুল বলেন, পেশাটি নিম্নমানের হলেও আমি এ কাজ করে খুব আনন্দ পাই। কারণ বর্তমানে এটাই আমার একমাত্র আয়ের অবলম্বন। মুরগি এবং হাঁসের পালক উঠিয়ে আমি দিনে সর্বোচ্চ চার থেকে পাঁচশত টাকা আয় করি। অবশ্য ১৩ বছর ধরে আমি প্রতিবন্ধী ভাতা পাই। আমার সংসারে স্ত্রী এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। যদি আমি কারো কৃপায় ব্যবসা করার মতো একটি স্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে এই কষ্টদায়ক পেশা ছেড়ে দেবো। আমার সন্তানগুলোকে লেখাপড়া করিয়ে মানুষ করতে পারবো।

প্রতিবেশী আব্দুল মতিন বলেন, অনেকদিন থেকেই তিনি হাঁস-মুরগির পালক উঠানোর কাজ করেন। এক পা অক্ষম থাকায় তাকে এ কাজ করতে হচ্ছে। তিনি যখন চলাফেরা করেন, তখন তাকে লাফিয়ে লাফিয়ে চলতে হয়। আমি চাই এই অসহায় মানুষের জন্য একটি সুব্যবস্থা হোক। সমাজের ধনবান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসতে পারেন।

কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান জেম বলেন, মনিরুলের একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড রয়েছে। তারপরেও সে সরকারি সহায়তার জন্য যদি কোনো আবেদন করে, সেক্ষেত্রে আমি তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবো।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু মনিরুলের প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড চালু রয়েছে, সেহেতু আর তেমন কোনো আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রতিবন্ধীদের জন্য যদি কোনো ঋণের ব্যবস্থা থাকে এবং সে যদি নিতে আগ্রহী হয়, তাহলে আমরা সেটা ব্যবস্থা করতে পারি।

রহনপুর পৌর মেয়র মতিউর রহমান খান বলেন, মনিরুলসহ পৌর এলাকায় প্রতিবন্ধীদের জন্য রহনপুর পৌরসভা কিছু করার চিন্তা ভাবনা করছে। তাদের আবেদন পেলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

/মাহি/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়