ঢাকা     শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৭ ১৪২৯ ||  ০১ জিলহজ ১৪৪৩

৫৮ লাখ টাকার মামলার আসামি চা দোকানদার

নওগাঁ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২২, ৬ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৬:৫৯, ৬ অক্টোবর ২০২১
৫৮ লাখ টাকার মামলার আসামি চা দোকানদার

রাজু আহম্মেদ পেশায় একজন চা দোকানদার। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় চা দোকান থেকে আসা আয় দিয়েই চলে তার সংসার। করোনার কারণে দোকান বন্ধ থাকায় বিভিন্ন সময় অনুদান পেতে ব‌্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে তিনি তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিয়েছিলেন। আর এটিই হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজুর জীবনের সবচেয়ে বড় সমস‌্যা। 

জানা গেছে, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম রয়েছে রাজু আহম্মেদ। এই নামের সঙ্গে প্রতারক একটি চক্র মামুন নামটি জুড়ে দিয়েছে (রাজু আহম্মেদ মামুন)।  জাতীয় পরিচয়পত্রের বাঁকি তথ‌্যে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। চক্রটি রাজু আহম্মেদ মামুন নামের ওই জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রাজুকে প্রোপাইটার দেখিয়ে নওগাঁ থেকে মেসার্স বাবু ট্রেডার্স নামের একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান মাছ ও মুরগীর খাবারের ব্যবসার জন্য রাজধানী ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত আদনান এগ্রো লিমিটেডের সঙ্গে বিক্রয় পরিবেশক হিসেবে চুক্তি করে। চুক্তি নামাতে যে ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়েছে সেটিও ১৫ বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি গার্মেন্টস দোকানের। ট্রেড লাইসেন্সের সবকিছু ঠিক রেখে পরিবর্তন করা হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম। হিমু গার্মেন্টসের স্থলে বসানো হয়েছে বাবু ট্রেডার্স। লেনদেনের এক পর্যায়ে বাবু ট্রেডার্স আদনান এগ্রো লিমিটেডের কাছ থেকে ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬০৫ টাকার মাল বাকিতে কেনে। পরে মালের দাম পরিশোধ না করেই প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়ে যায়।

মালের দাম না পেয়ে গত ২১ জুলাই নেত্রকোনা আদালতে আদনান এগ্রো লিমিটেড হস্তান্তর যোগ্য দলিল আইন ১৮৮১ এর ১৩৯ (১) ধারায় রাজু আহম্মেদ মামুনকে আসামি করে মামলা করেন। এতে ফেঁসে যান চা দোকানদার রাজু আহম্মেদ। এমন মামলায় দিশেহারা রাজুর পরিবার। মামলা থেকে বাঁচতে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে তার পরিবার। 

রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘করোনা সময়ে চা দোকান বন্ধ থাকায় অনুদানের জন্য বিভিন্ন জায়গায় আমার জাতীয় পরিচায়পত্র দিয়েছিলাম। কে বা কারা আমার জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আমাকে ফাঁসিয়েছেন। এখন কি করবো সেটা বুঝতে পারছি না। এ বিপদ থেকে উদ্ধার হতে না পারলে পুরো পরিবার নিয়ে আমাকে না খেয়ে মরতে হবে।’ 

রাজু আহম্মেদের বাবা কাজেম মৃধা বলেন, ‘একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানের এমন বিপদে দিশেহারা পুরো পরিবার। সন্তানকে বিপদ থেকে উদ্ধারের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু কেউ কোনো সমাধান দিতে পারছেন না।’ 

আদনান গ্রোর লিমিটেডে কাছ থেকে মাছ ও মুরগীর খাবারের ব্যবসা করেন নওগাঁ ফিডের মালিক বজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘রাজু বা তার পরিবার কোনো দিনই এমন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। রাজু ফিডের ব্যবসাতো দূরের কথা এ বিষয়ে তার সাধারণ জ্ঞানও নেই।‘

আদনান এগ্রো লিমিটেড-এর উত্তর বঙ্গ এরিয়া ম্যানেজার সাহাব উদ্দীন বলেন, ‘চা দোকানদার রাজু আহম্মেদকে ফাঁসিয়েছে অন্য কোন রাজু। তিনি কোনো ভাবেই প্রতারনার সঙ্গে জড়িত না এটি আমরা পরিস্কার হয়েছি। বিষয়টি ঢাকা অফিসকে জানানো হয়েছে।  পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে  এখনো কোনো সিদ্ধান্ত  হয়নি ।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর নওগাঁ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, ‘এই জালিয়াতির সঙ্গে  আদনান এগ্রো লিমিটেড এর কর্তাব্যক্তিরাও জড়িত আছেন। কারণ একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে এতো পরিমাণ টাকা বাকিতে লেনদেন করবেন তাদের এ সম্পর্কে জানার প্রয়োজন ছিলো। জাতীয় পরিচয়পত্র যাছাই না করে কেমন করে এতো টাকার লেনদেন করেন তা আমাদেরকে প্রশ্নবৃদ্ধ করে।’ 

সাজু/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়