Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৮ ||  ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

সাতক্ষীরার সেই ঈমামসহ মুসল্লিদের ভাসমান মসজিদে নামাজ আদায়

শাহীন গোলদার, সাতক্ষীরা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:০৪, ৭ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ০৬:৩১, ৭ অক্টোবর ২০২১
সাতক্ষীরার সেই ঈমামসহ মুসল্লিদের ভাসমান মসজিদে নামাজ আদায়

সাঁতার কেটে মসজিদের যাওয়া সাতক্ষীরা প্রতাপনগরের সেই ঈমাম পেয়েছেন নৌকা। তবে জোয়ারের পানিতে এখনও নিমজ্জিত মসজিদসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। ইতোমধ্যে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভাসমান মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। শুরু হয়েছে নামাজ আদায়। এজন্য হাজার কষ্টের মাঝে এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে ঈদের আনন্দ।

সরজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় পানিতে তলিয়ে আছে প্রতাপনগর ইউনিয়নটি। ফলে দাফনের জন্যেও নেই এক ইঞ্চি জায়গা। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ক্ষত বুকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপনকারী এই এলাকার মানুষের অভাব-অনটন আর দুঃখ, দুর্দশা দেখার যেন কেউ নেই।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে সাতক্ষীরার উপকুলীয় উপজেলা আশাশুনির প্রতাপনগরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকটি পয়েন্টে বেঁড়িবাধ ভেঙে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা।

প্রতাপনগরে স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন, গনি কবিরাজ খোকন গাজিসহ অনেকেই জানান, গত দুই মাস আগে কোনরকমে রিংবাধ দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ বন্ধ করলেও গত ১০ সেপ্টেম্বর খোলপেটুয়া নদীর প্রবল জোয়ারের চাপে প্রতাপনগরের মানিক হাওলাদারের বাড়ির বায়তুন নাজাত মসজিদ সংলগ্ন রিংবাধ ভেঙে আবারও তলিয়ে যায় প্রতাপনগর, তালতলা, মাদারবাড়িয়া, কুড়িকাহনিয়া ও কল্যাণপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা। এমনকি ঐ এলাকার মানুষের মৃত্যুর পর দাফন করার মতো নেই কোন জায়গা।

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের হাওলাদারবাড়ি জামে মসজিদের মুসল্লি ইয়াছিন আলী, মঞ্জরুল কবিরসহ অনেকেই জানান, প্রতাপনগর ইউনিয়নে তলিয়ে আছে হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদটি। আশে-পাশে জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত আর যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারতেন না স্থানীয় মুসল্লিরা। গলা পানি সাঁতার কেটে মসজিদের ইমাম সাহেব পাঁচ ওয়াক্ত  আযান ও নামাজ আদায় করেন।

তারা আরও জানান, ডুবন্ত মসজিদটিতে নামাজ চালু রাখতে সাঁতার কেটে আযান দেন ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন ইমাম মইনুর রহমান। মসজিদের ভিতরে দুই থেকে তিন ফুট পানিতে দাঁড়িয়ে জুমার দিনে নামাজ আদায় করেন কয়েকজন মুসল্লি।

সাঁতার কেটে মসজিদে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগ ইউনিয়নের হাওলাদার বাড়ী জামে মসজিদের ঈমাম ও খতিব হাফেজ মঈনুর রহমান জানান, পানিতে সাঁতার কেটে পাঁচ ওয়াক্ত আযান দিয়ে নামাজ আদায় করতে হতো। অনেক সময় রাতে ইশার নামাজ এক ওয়াক্ত ওই মসজিদে যেতে না পারলে মন ভীষণ খারাপ লাগতো। তিনি আরও জানান, সম্প্রতি একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে একটি নৌকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় মুসল্লিদের নামাজের কথা চিন্তা করে চট্টগ্রামের আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় ভাসমান মসজিদের। আজ মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) থেকে ভাসমান মসজিদটিতে নামাজ আদায় করতে পারছেন মুসল্লিরা।

হাওলাদার বাড়ি বায়তুন নাজাত জামে মসজিদের ঈমাম ও খতিব হাফেজ মঈনুর রহমান জানান, ভাসমান মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট, প্রস্থ ১৬ ফুট। রয়েছে আজান দেওয়ার জন্য একটি মাইকসেট, ওজুখানা, পানি ব্যবহারের জন্য চারটি ট্যাব ও একটি টয়লেট। এই মসজিদে মুসল্লিদের তেলাওয়াত করার জন্য রাখা আছে চারটি পবিত্র কোরআন মাজিদ।

চট্টগ্রামের আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন জানান, ফেসবুকে দেখে এ ব্যাপারে খোঁ-জখবর নিয়ে ঘটনাস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের সেই ভাসমান মসজিদ দেখতে যান।

তিনি আরও জানান, তিনি স্থানীয় মুসল্লিদের নামাজের কথা চিন্তা করে নৌকার ওপর বিশেষভাবে নির্মিত একটি ভাসমান মসজিদ উপহার হিসেবে দিয়েছেন। সেখানে ৫৫ জন মসুল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করতে পারবেন। মঙ্গলবার দুপুরে জোহরের নামাজের মধ্য দিয়ে মসজিদ উদ্বোধন করা হয়েছে।

জেলার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের বানভাসী মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়