Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ১ ১৪২৮ ||  ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আমদানি বেশি, পেঁয়াজের বিক্রি নেই হিলি বন্দরে

দিনাজপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৮, ১৪ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৭:৫২, ১৪ অক্টোবর ২০২১
আমদানি বেশি, পেঁয়াজের বিক্রি নেই হিলি বন্দরে

ভারত থেকে চাহিদার তুলোনায় পেঁয়াজের আমদানি বেশি হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। ক্রেতা সঙ্কটের কারণে গুদামেই পচে নষ্ট হচ্ছে আমদানিকরা পেঁয়াজ। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিন্ডিকেটে পেঁয়াজের ব্যবসা করছেন আমদানিকারকরা। দাম না কমানোয় সাধারণ ব্যবসায়ীরা আমদানি করা পেঁয়াজ কিনতে আগ্রহী হচ্ছেননা। 

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে হিলি বন্দরের আমদানিকারকদের গুদাম ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি গুদামে প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে।  প্রচণ্ড গরমে পচে যাচ্ছে আমদানীকরা এসব ভারতীয় পেঁয়াজ। তবে এ সময় গুদামগুলোতে কোনো পেঁয়াজের ক্রেতা দেখা যায়নি। 

আরো পড়ুন: ক্রেতা নেই, পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে হিলির আমদানিকারকরা

দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত সোমবার (১১ অক্টোবর) ভারত থেকে এই বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। আর বন্দর বন্ধের পর থেকে হিলির আমদানিকারকদের কাছে বাহির থেকে সাধারণ কোনো ব্যবসায়ী পেঁয়াজ কিনতে আসেননি। 

প্রচণ্ড গরমে গুদামে থাকা পেঁয়াজে পচন ধরতে শুরু করেছে। পচে যাওয়া এসব পেঁয়াজ  ৫ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার চেষ্টা করা হলেও কোনো ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছেনা।এছাড়া প্রকারভেদে বুধবার (১৩ নভেম্বর) ভালো মানের ভারতীয় পেঁয়াজ হিলি পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে, আর অল্প খারাপ পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৩০ টাকা কেজিতে।

এদিকে হিলির পেঁয়াজ বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভারতের পেঁয়াজ আর দেশি পেঁয়াজের মূল্য তুলোনামূলকভাবে সমান থাকার কারণে ক্রেতারা ভারতীয় পেঁয়াজের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বৃহস্পতিবার হিলিতে ভারতীয় পেঁয়াজের খুচরা বিক্রি মূল্য ছিল ৫০ টাকা, আর দেশি পেঁয়াজ খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। দেশি পেঁয়াজের দাম কম থাকায় ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা কমে গেছে।

হিলি বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘হিলির পেঁয়াজ আমদানিকারকরা সিন্ডিকেটে ব্যবসা করছেন। তাদের কাছে আমাদের বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ আজ আমরা ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা দরে।’

বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মিঠু মিয়া রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমরা ভারতের পেঁয়াজ ৪৬ টাকা কেজি দরে পাইকারি কিনে তা খুচরা বিক্রি করছি ৫০ টাকায়। আর দেশি পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা দরে পাইকারি নিয়ে তা বিক্রি করছি ৬০ টাকা করে। তবে পেঁয়াজের বেচাবিক্রির অনেকটা কম।’

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সরকারি নজরদারিতে পেঁয়াজের বাজারে ধ্বস নেমেছে। শারদীয়া দুর্গাপূজার বন্ধের পর আবারও হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হবে। পেঁয়াজ আমদানি হলে দাম আরো কমে যাবে। তাই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতারা বর্তমান এই বন্দরে আসছে না। ব্যবসায়ীরা না আসার কারণে আমদানিকারকদের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে না। এছাড়াও পূজার বন্ধের আগে চাহিদা তুলোনায় এবন্দরে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।’

হিলি পানামা পোর্ট নিংককের গণসংযোগ কর্মকর্তা সৌরভ হোসেন প্রতাব মল্লিক বলেন, গত রোববার ৪২টি ট্রাকে ভারত থেকে ১ হাজার ১৪৪ মেট্রিকটন পেয়াঁজ আমদানি করা হয়। 

মোসলেম/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ