Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৭ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৮ ||  ২০ রবিউস সানি ১৪৪৩

ইলিশ রক্ষায় কুষ্টিয়া প্রশাসনের উদসীনতার অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৭, ১৬ অক্টোবর ২০২১  
ইলিশ রক্ষায় কুষ্টিয়া প্রশাসনের উদসীনতার অভিযোগ

৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এ সময় ইলিশসহ সব প্রজাতির মা মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার।  তবে প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলার পদ্মা নদীতে ইলিশ রক্ষা অভিযানের কোনো ফলই হচ্ছে না। নাম মাত্র অভিযানে কৌশল পাল্টে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জেলেরা।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় অবস্থিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ব্রিজের নিচেই রয়েছে একটি পুলিশ ক্যাম্প। ওই পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইলিশ ধরছে জেলেরা।

জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর এই ১১ দিনের মধ্যে মাত্র তিনদিন (৯, ১২ ও ১৪) অক্টোবর ভেড়ামারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোকসানা খাতুন ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) পদ্মা নদীতে অভিযান চালান। এ সময় কিছু কারেন্ট জাল উদ্ধার করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। 

কিন্তু ইলিশ রক্ষা অভিযানে সরকারি টাকা বরাদ্ধ থাকলে ও বাকি দিনগুলো নাম মাত্র অভিযান চলছে। যার ফলে বেশ স্বাচ্ছন্দে চলছে পদ্মায় ইলিশ শিকার।

ভেড়ামারায় পদ্মার র্তীরবতী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল জানান, “নদীতে নির্ভরশীল লাইসেন্সপ্রাপ্ত কিছু জেলে এবং এলাকার সাধারণ মানুষ রাতের অন্ধকারে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রকারের মাছ শিকার করছেন। প্রতিবার এ মৌসুমে জেলেদের সরকার অনুদান দিলেও এবার তা দেওয়া হয়নি।’

আব্দুল আলীম নামের একজন জানান, ‘বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময়ে ডিমওয়ালা ইলিশ মাছ বেশি ধরা পড়ে। আর বাজারে এর দাম ভালো পাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু জেলেরা মাছ ধরছে। এবার প্রশাসনের অভিযান ও তৎপরতা কম বলে জেলেরা এ সময়েও ইলিশ ধরা অব্যহত রেখেছে।’

ভেড়ামারা উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামারা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরিন প্রায়দিনই অফিসের হাজিরায় অনিয়মন করেন। ফলে সময় মতো ইলিশ নিধন প্রতিরোধে  ঢিলেঢালা ভাবে দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোকসানা খাতুন জানান, ‘দুই দিন নদীতে অভিযান চালানো হয়েছে। সে সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্যকরে মাছ শিকারে আসা জেলেদের কাছ থেকে কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়।’

ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘নদীতে আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। খবর পেয়ে ট্রলার নিয়ে ঘটনাস্থল যাওয়ার আগেই জেলেরা পালিয়ে যায়।

এদিকেজেলার মিরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজিউল ইসলাম জানান, ‘৪ অক্টোবর থেকে সকাল ও বিকেলে প্রতিদিন পদ্মা নদীতে অভিযান চালানো হচ্ছে। অবৈধ কারেন্ট জাল ও ইলিশ উদ্ধার অভিযান অব্যহত রয়েছে।’ 

তিনি আরো জানান, ‘আমাদের ট্রলারের চেয়ে বেশি গতি রয়েছে জেলেদের ট্রলারে। ফলে তারা সহজেই পালিয়ে যেতে পারে। যদি স্পিডবোর্ড কিংবা উচ্চ গতি সম্পন্ন ট্রলার আমরা ব্যবহার করতে পারি তাহলে ইলিশ রক্ষা অভিযান আরো গতিশীল হবে।’

কাঞ্চন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়