Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৬ ১৪২৮ ||  ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

পানিতে তলিয়ে গেলো কৃষকের স্বপ্ন   

মঈনুদ্দীন তালুকদার হিমেল, ঠাকুরগাঁও || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪৪, ২০ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৪:৫২, ২০ অক্টোবর ২০২১
পানিতে তলিয়ে গেলো কৃষকের স্বপ্ন   

ঠাকুরগাঁওয়ে পানিতে তলিয়ে গেলো আলু চাষিদের সপ্ন। দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ফসলি জমি। গত এক সপ্তাহের মধ্যে যারা আলুর বীজ রোপণ করেছিলেন তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সদর উপজেলার আকচা এলাকায় আলুর ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে, রোপণকৃত আলুর সব জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা বৃষ্টিতে ভিজে ডুবে যাওয়া আলুর বীজ তুলছেন।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ‌্য মতে, এবার ২৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ‌্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু রোপণ করা হয়েছে। দুই দিনে জেলায় ৬৫.৬ মিলিমিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ২৫৫ হেক্টর জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আজমত আলী নামে এক আলু কৃষক বলেন, ‘পানির নিচে থাকলে আলুগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। কিছু দিন আগেই লাগিয়েছিলাম। এখনই তুলতে হচ্ছে। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো। জানি না কীভাবে মহাজনের ঋণ শোধ করবো।’

পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন মনসুর মিঞা। তিনি এবার ২ একর জমিতে আগাম আলু রোপণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গতবার আলুতে অনেক লোকসান হয়েছে। তাই এবার আগাম আলু চাষ করে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সব সপ্ন পনিতেই ডুবে গেলো।’ 

ফারুখ নামে এক আলু চাষি বলেন, ‘প্রতিবছর অধিক লাভের আশায় এ এলাকার লোকজন আগাম জাতের আলুর বীজ লাগায়। গত বুধবার সকালে ৪০ শতক জমিতে রোমানা জাতের হাইব্রিড আলুর বীজ লাগিয়েছি। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছি। আজ জমি থেকে আলুর বীজগুলো তুলতে না পারলে সব পচে যাবে।’ 

কামাল নামে একজন বলেন, ‘এবার আমি ১৪ বিঘা জমিতে ৫৬ বস্তা আলুর বীজ লাগিয়েছি। সার, শ্রমিক খরচ ও জমি চাষের খরচসহ সব মিলে শুধু বীজ লাগাতেই প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দুদিনের টানা বৃষ্টিতে আমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।’

ঠাকুরগাঁও কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হাসেন জানান, প্রতি বছর এ জেলায় আগাম আলুর চাষ হয়। এবার বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু জমির বীজ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি নেমে গেলে এর পরিমাণ বের করা সম্ভব হবে।’

এমন অবস্থায় বৃষ্টি চলাকালীন ক্ষেত থেকে আলু না তুলে এমনিতে রেখে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘আলুগুলো তুলেও কোনো লাভ হবে না। তুলে রেখে দিলেও সেগুলো পচে যাবে। বৃষ্টি কমার পর অবস্থা অনুযায়ী ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া নাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।’ 

ঢাকা/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়