Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৭ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৩ ১৪২৮ ||  ২০ রবিউস সানি ১৪৪৩

দিনে ডাক সেবা, রাতে অসামাজিক কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৩৪, ২৫ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৫:৪৫, ২৫ অক্টোবর ২০২১
দিনে ডাক সেবা, রাতে অসামাজিক কাজ

চান্দনা ডাকঘর

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পরিত্যক্ত এক ভবনে গত কয়েক বছর ধরে চলছে ডাক সেবা। নিরাপত্তা না থাকায় চুরি হয়ে যাচ্ছে ডাক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথিপত্র। পরিত্যাক্ত ভবন হওয়ায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা।

এছাড়া, দিনের বেলায় ডাক সেবা চললেও সন্ধ‌্যার পর সেখানে অসামাজিক কাজ চলে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অধীনে থাকা এই ডাকঘরের নাম ‘চান্দনা ডাকঘর’। গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই  ডাক অফিসের ‘পোস্ট কোড: ১৭০২।’

সোমবার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই ডাক অফিসের দরজা ও জানালা ভাঙা। রুমে প্রবেশের পথ আর্বজনায় পরিপূর্ণ।একটু বৃষ্টি হলেই ভবনের ঘরে প্রবেশ করে পানি। যেখানে বসে ডাক সেবা কার্যক্রম চলছে তার চারপাশ ভাঙা, উপরে ছিদ্র, মেঝেতে ছোট ছোট অসংখ‌্য গর্ত। ওই ভবনটি বহু আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ সেখানে বসে কাজ করছেন পোস্টমাস্টার ফারজানা, রানার মুনসুর আলী ও পিয়ন সফিকুল।

পোস্টমাস্টার ফারজানা বলেন, ‘দুই বছর ধরে এখানে বসে কাজ করছি। কয়েকবার ডাকবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিত অভিযোগ দিয়েও কাজ হয়নি। শুধুমাত্র পেশাকে সম্মান করে আর্বজনা ও গন্ধের মাঝেও সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এখানে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র থাকে কিন্তু জানালা ভাঙা। নেই কোনো সিকিউরিটি ব্যবস্থা। কয়েকমাস আগে ডাকঘরে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সিলসহ অনেক কিছু চুরি করে নিয়ে গেছে চোর। এ ব‌্যাপারে বাসন থানায় একটি মামলা করা হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত চোর ধরার বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি।’

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থা ডাকঘরের পেছনের অংশে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবনের পেছনের অংশে প্রবেশ করে দেখা যায় সেখানে মাদকের রমরমা আয়োজন চলছে। পাশাপাশি কয়েকটি পরিত্যক্ত রুম, সেখানে চাটাই পেতে চলছে নেশার আসর। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে নেশা করতে থাকা কয়েকজন দ্রুত পালিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ‘রাত হলেই ভবনের পেছনে জমে ওঠে রমরমা দেহব্যবসা। সকাল হতেই ওই স্থানে পড়ে থাকতে দেখা যায় যৌন উত্তেজনার ওষুধ, কনডমসহ নেশাজাত দ্রব্যের সরঞ্জাম।’

গাজীপুর ডাকবিভাগের অফিস পরিদর্শক সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ মুসা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ডাক বিভাগের সেবা যাতে কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য পরিত্যাক্ত ওই ভবনে আমাদের কর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ ও গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের একটি রুম দিতে চেয়েছেন। এছাড়াও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাছেও একটি রুমের জন্য আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত এই সমস‌্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

গাজীপুর/রেজাউল/মাসুদ/বুলাকী

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়