Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ২৮ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৪ ১৪২৮ ||  ২০ রবিউস সানি ১৪৪৩

নিষেধাজ্ঞা শেষে হাতিয়ায় চলছে মাছ ধরার প্রস্তুতি

নোয়াখালী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৩৯, ২৫ অক্টোবর ২০২১  
নিষেধাজ্ঞা শেষে হাতিয়ায় চলছে মাছ ধরার প্রস্তুতি

হাতিয়ায় চলছে মাছ ধরার প্রস্তুতি।

টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে স্বপ্ন নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাতিয়াসহ নোয়াখালী উপকূলের জেলেরা। সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে সোমবার রাত ১২টায়।

সোমবার (২৫ অক্টোবর ) রাত ১২টার পর পরই মৎস্য শিকারিরা নেমে পড়বেন রুপালি ইলিশের সন্ধানে। নোয়াখালী জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের লক্ষাধিক জেলে তাদের সব ধরনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছেন।

জানা গেছে, মা ইলিশের বাধাহীন প্রজনন এবং সব প্রজাতির মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মৎস্য অধিদপ্তর। উপকূলীয় এলাকার ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। যে কারণে নোয়াখালীর মেঘনায় পড়েনি জেলেদের জাল।

বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জেলে পল্লীগুলোতে বইছে আনন্দের জোয়ার। জালে রূপালী ইলিশের ঝাঁক ধরা পড়বে এমন আশায় বুক বেঁধেছেন জেলেরা। ট্রলার মেরামত, নতুন জাল তৈরি ও পুরনো জাল সেলাইসহ সমুদ্রে মাছ ধরার সব প্রস্তুতি শেষ করে অপেক্ষায় আছেন উপকূলের মৎস্যজীবীরা।

হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের ফারুক মাঝি, বেল্লাল ও রুহুল আমিন মাঝি বলেন, সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আমরা পালন করেছি। এরই মধ্যে ইলিশ ধরার সব প্রস্তুতি শেষ করেছি। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় অপেক্ষায় আছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সমুদ্রে যাবো।

বুড়িরদোনা ঘাটের একাধিক জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর ইলিশের ভরা মৌসুমে মাছ না পেয়ে উপকূলের জেলেরা দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তারপরও সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মাছ শিকার থেকে বিরত ছিলেন। এখন সমুদ্রে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লে দেনা পরিশোধ করতে পারবেন। 

মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন বলেন, আমরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে ২২ দিন মাছ শিকারে যাইনি। এখন যদি প্রচুর ইলিশ পাই তাহলে আমাদের আশা পূরণ হবে। অবরোধকালে যদি প্রতিবেশী দেশের জেলেরা দেশের জলসীমানায় মাছ ধরতে না পারতো তাহলে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়তো।

হাতিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আক্তার হোসাইন বলেন, ২২ দিন পর মাছ ধরতে যাবে জেলেরা। মেঘনা নদীতে মাছ কম পাওয়া যায় তবে যেসব ফিশিং ট্রলার সাগরে যায় তারা ভাল মাছ পায়। আমরা নিজেরাই সরকারি আইন মান্য করে নদীতে মাছ ধরতে যেতে দিইনি। আশাকরি ভাল মাছ পাওয়া যাবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে গত ২২ দিনের জন্য নদ-নদী এবং সাগরে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। উপকূলের জেলেরা নিজেরাই অনেকটা সচেতন হয়েছেন। আমরা দিন-রাত মা ইলিশ রক্ষায় কাজ করেছি। আশা করছি, আমরা এ বছর শতভাগ সফল হয়েছি। এতে করে ইলিশের প্রাচুর্যতা বৃদ্ধি পাবে।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, ইলিশ মাছ বড় হতে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞার প্রধান উদ্দেশ্য ইলিশসহ গভীর সমুদ্রের মাছকে নিরাপদে মা মাছে রূপান্তর করা, যাতে করে তারা নিরাপদে নদীতে ডিম ছাড়তে পারে। আমরা ধারণা করছি ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্যে সফল হয়েছে।

মওলা/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়