Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৮ ||  ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

মৌসুমীকে এখন আর শেকলে বেঁধে রাখতে হয় না 

রফিক সরকার, গাজীপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪০, ২৭ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ২২:১৫, ২৭ অক্টোবর ২০২১
মৌসুমীকে এখন আর শেকলে বেঁধে রাখতে হয় না 

সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজের সঙ্গে মৌসুমী আক্তার

অভাবের সঙ্গে লড়াই করে বড় হচ্ছিলো গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে মৌসুমী আক্তার (১৪)। তার ইচ্ছা ছিলো— উচ্চশিক্ষা নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বাবার সংসারে স্বচ্ছলতা আনবে। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় তার মা সংসার ছেড়ে চলে যান। আর মায়ের চলে যাওয়া মেনে নিতে পারেনি শিশু মৌসুমী। কাঁদতে কাঁদতে এক সময় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে সে।

মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর মৌসুমী মাঝে-মধ্যে উধাও হয়ে যেতো। তাকে খুঁজে এনে বাড়িতে রাখা হতো। এক পর্যায়ে মৌসুমীর পায়ে শেকল পরানো হয়। তিন বছর ধরে শেকলবন্দি মৌসুমী ছিলো চিকিৎসাহীন।

বিষয়টি নিয়ে গত ৪ আগস্ট জনপ্রিয় নিউজপোর্টাল রাইজিংবিডিতে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেই প্রতিবেদন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজের নজরে আসে। তিনি ওই কিশোরীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। তার উদ্যোগে গাজীপুর ও ঢাকায় মৌসুমীর চিকিৎসা শুরু হয়।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মৌসুমীর বাবা আব্দুল খালেক বলেন, চিকিৎসা দেওয়ায় মৌসুমী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। শেকলও খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন মেয়েকে লেখাপড়া করিয়ে বড় মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে মৌসুমীকে তার বাড়িতে দেখতে যান সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ। এ সময় কিশোরীর পরিবারকে বস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেন তিনি। তখন উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় ভূষণ দাস, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবির হিমু, আজহার তালুকদার, শহিদ মিয়া প্রমুখ।

সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সভ্য সমাজে কোনো মানুষের পায়ে শেকল থাকতে পারে না। বিষয়টি দেখে আমি থমকে যাই। চিকিৎসায় মেয়েটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে, এটা ভালো খবর।’

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রণয় ভূষণ দাস বলেন, মৌসুমীর প্রথমে গাজীপুরে হাসপাতালে ও পরে ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে ১৯ দিন চিকিৎসার পর উন্নতি হওয়ায় তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়। সে এখন ৭০ ভাগের উপর সুস্থ। চিকিৎসকের ফলোআপে রয়েছে। এখন আর তাকে শেকলে বেঁধে রাখতে হয় না।

মৌসুমীর চিকিৎসার ব্যয় সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ বহন করছেন বলে জানান ডা. প্রণয় ভূষণ দাস। 
 

/বকুল/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়