ঢাকা     সোমবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ১০ ১৪২৮ ||  ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাবার কব্জি কেটে ফেলা ছেলেকে আটক করেছে র‌্যাব

মাগুরা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১১, ২৯ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৮:১৯, ২৯ নভেম্বর ২০২১
বাবার কব্জি কেটে ফেলা ছেলেকে আটক করেছে র‌্যাব

মাগুরায় জমি লিখে না দেওয়ার কারণে ধারালো ছুরি দিয়ে বাবার হাতের কব্জি কেটে ফেলা সেই ছেলেকে আটক করেছে র‌্যাব।  

আজ সোমবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়া গ্রামের রুবেল হোসেনের বাড়ি থেকে র‌্যাবের সদস্যরা তাকে আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-০৬ এর (ঝিনাইদহ অঞ্চল) সিও (কমান্ডিং অফিসার) মেজর শরীফ।

বিকেল ৪টার দিকে র‌্যাব-৬ এর ঝিনাইদহ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেজর শরীফ বলেন, জমি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২৩ নভেম্বর মাগুরা সদর উপজেলার উথলি গ্রামের শহিদুল ইসলাম ওরফে সাধুকে তার ছোট ছেলে হানিফ মিয়া ধারালো ছুরি দিয়ে কব্জি কেটে হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এ ঘটনায় শহিদুল হকের বড় ছেলে গোলাম মোস্তফা রাতে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে হানিফ মিয়া পলাতক ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বাবার পরিবার থেকে পৃথক থাকেন ছোট ছেলে হানিফ মিয়া। বাবা শহীদুল হক থাকেন বড় ছেলে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে। সংসার আলাদা হয়ে যাওয়ায় মাাঝে মধ্যে বাবার সম্পত্তি থেকে কিছু ফসলি জমি লিখে দেওয়ার জন্য বাবাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন ছোট ছেলে হানিফ। 

কিন্তু আচরণ ভালো না হওয়ার কারণে বাবা ছোট ছেলেকে কোনো সম্পত্তি লিখে দেননি। এ কারণে বাবার উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন হানিফ মিয়া। এ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে মাঝে মাঝে বচসাও হতো। সম্পত্তি না পেয়ে অবশেষে ছোট ছেলে হানিফ গত ২৩ নভেম্বর সকালে বাড়ির পাশের চায়ের দোকানে বাবার উপর হামলা চালিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে বাবার হাতের কব্জি কেটে ফেলে। 

আরও পড়ুন: সম্পত্তির লোভে কুপিয়ে বাবার হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করলো ছেলে

গুরুতর জখম অবস্থায় বাবা শহীদুল হক ওরফে সাধু (৭০) কে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থা খারাপ হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শহিদুল হকের নাতনি সোনিয়া খাতুন বলেন, ‘দাদার অবস্থা ভালো নয়। আজ সোমবার দুপুরে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করার কথা বলেছে। জানি না দাদা বাঁচবে কি না।’

মেজর শরীফ বলেন, হানিফ মিয়াকে মাগুরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হবে। 
 

শাহীন/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়