ঢাকা     রোববার   ১৬ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ২ ১৪২৮ ||  ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

প্রতিশ্রুতি রক্ষায় নাইটগার্ডের দায়িত্বে ইউপি চেয়ারম্যান

মঈনুদ্দীন তালুকদার হিমেল, ঠাকুরগাঁও || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৭:০৯, ১ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ০৮:৩৩, ১ ডিসেম্বর ২০২১
প্রতিশ্রুতি রক্ষায় নাইটগার্ডের দায়িত্বে ইউপি চেয়ারম্যান

ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ইউনিয়নে প্রতি রাতে পাহারার দায়িত্ব পালন করছেন সেই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। দীর্ঘ প্রায় চার বছর থেকে এই ব্যতিক্রম কাজটি করছেন তিনি।

জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদরের মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে ২০১৬ সালে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. সোহাগ। সেসময় নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। সেই নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের দিয়েছিলেন বেশকিছু প্রতিশ্রুতি। আর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই এলাকার নাইটগার্ড হতে হয়েছে তাকে।

প্রতিশ্রুতি রক্ষায় নাইটগার্ড বনে যাওয়ার গল্প নিয়ে বিস্তারিত জানতে কথা হয় সেই সোহাগ চেয়ারম্যানের সাথে। তিনি জানান, একটা সময় এই মোহাম্মদপুরসহ জেলাজুড়ে প্রচুর চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটতো। মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা বড় সমস্যা ছিল মামলা জটিলতা। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখানে একে অপরের নামে মামলা করতো। আর এই মামলার খরচ চালাতে গিয়ে উভয় পক্ষই নিঃস্ব হয়ে যেতো।

চেয়ারম্যান সোহাগ বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছে ছিল আমি এই সমস্যার সমাধান করবো। তাই এই বিষয়গুলোই আমি নির্বাচনী ইশতেহার হিসেবে ব্যবহার করি। ব্যাপক সাড়া পাই। ইউনিয়নের মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে। তাই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমি কাজ শুরু করি। এলাকার মানুষের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে সমাধান করা শুরু করি। মামলায় গিয়ে নিজের ক্ষতির বিষয়টি বোঝাই। এতে করে সুন্দর ফলও পাই।’

চেয়ারম্যান সোহাগের ইউনিয়ন থেকে থানায় আসা অভিযোগের পরিমাণ সবচাইতে কম। তাই শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশিং সদস্য নির্বাচিত হয়ে কমিউনিটি পুলিশিং ২০২১ পুরস্কার দেওয়া হয় তাকে।

তবে দায়িত্ব বুঝে নেয়ার প্রথমদিকে এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধগুলো সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানান সোহাগ।

সোহাগ বলেন, ‘চৌকিদারদের অসাবধানতা ও সঠিক মনিটরিং এর অভাবে রাতের বেলায় চুরি, ডাকাতি শুরু হয়। এতে করে আমি নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছিলাম না। তাই নিজেই সারা রাত জেগে ইউনিয়নের পাহারা দেয়া শুরু করি।’

‘এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে চৌকিদার পাহারা বসিয়ে রাতভর নিজেই মনিটরিং করি। দিনে সাড়ে চার ঘন্টা করে ঘুমানো শুরু করি। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর ঘুমাতে যাই। আবার সকাল সাড়ে দশটায় পরিষদে যাই। এই কাজে প্রথমে কষ্ট হলেও এখন বেশ উপভোগ করছি। আর ফলস্বরূপ আমার এলাকায় কোনো প্রকার চুরি, ডাকাতির মতো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে না।’

মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাজ্জাদ বলেন, ‘প্রথমে যখন চেয়ারম্যান নিজেই এলাকা পাহারা দেওয়ার কথা জানায় তখন বিষয়টা বেশ অদ্ভুত লেগেছিল। তবে আমরা এর ভালো ফল পাচ্ছি। আর যাইহোক, এলাকাবাসী তার উপরে সন্তুষ্ট।’

ঠাকুরগাঁও উপজেলার চেয়ারম্যান অরুণাংশু দত্ত টিটু জানান, সোহাগ চেয়ারম্যানের পাহারা দেয়াটা এখন জেলায় আলোচ্য বিষয়। এই সময় যেখানে মানুষ সামতর্থ্য থাকলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় গুরুত্ব দেয় না, সেখানে তিনি অদ্ভুত পন্থা অবলম্বন করেছেন। তবুও নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ করেছেন। অনেক শুভ কামনা রইলো তার জন্যে।

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়