ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ১২ ১৪২৮ ||  ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আনন্দ মোহন কলেজে হল ছাড়তে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা 

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪৪, ৫ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৪:১০, ৫ ডিসেম্বর ২০২১
আনন্দ মোহন কলেজে হল ছাড়তে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা 

ময়মনসিংহের প্রাচীন বিদ্যাপিট আনন্দমোহন কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে হল বন্ধ ঘোষণার পর থেকে হল ছাড়তে শুরু করছেন শিক্ষার্থীরা। তবে বেশিরভাগ মেয়েরা হল ছেড়ে গেলেও হলে হলে থাকার দাবিতে আন্দোলন করছেন ছেলেরা।

রোববার (৫ ডিসেম্বর)  সকালে আনন্দ মোহন কলেজে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রীদের অনেকে হল ছাড়তে শুরু করছেন। তবে সকালে কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী হল বন্ধের ঘোষণা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়। হল বন্ধের ঘোষণাকে অযৌক্তিক বলছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দাবি জানিয়েছেন হল বন্ধের ঘোষণা যেন বাতিল করা হয়।

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের ছাত্র রবিন বলেন, ‘করোনার প্রাদুর্ভাবে দীর্ঘ ১৯ মাস হল বন্ধ থাকার পর তিনদিন আগে হল খোলা হয়েছে। এরই মধ্যে হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনিতেই আমাদের লেখাপড়ার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন হল বন্ধ হলে আমাদের কি হবে।’

শেখ হাসিনা হলের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসি বলেন, ‘আগামী ২৯ ডিসেম্বর আমাদের পরীক্ষা। এই সময় আমরা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত ছিলাম। এখন হল বন্ধ আমাদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হবে।’

আনন্দ মোহন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী প্রভাষক ও হল সুপার মো. কামরুল হাসান জানান, গতকাল কলেজের কিছু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে মিছিল করে। এসময় অন্য আরেকটি গ্রুপের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।  এ অবস্থায় আমরা পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আজ সন্ধ‌্যায় কলেজের সকল হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হল বন্ধ থাকবে। 

উল্লেখ্য, গত ৩ ডিসেম্বর রাতে আনন্দ মোহন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ইউনিটটি জেলা ছাত্রলীগের অন্তর্গত ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এমন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মহানগর ছাত্রলীগের অনুসারীরা আন্দোলনে নামে। এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করে জেলা ছাত্রলীগ।

এনিয়ে, শনিবার দিনভর কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কলেজের দুই শিক্ষক সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।

মিলন/বুলাকী

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়