ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ১৩ ১৪২৮ ||  ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

টিউবওয়েলের পানিতে বিষ দেওয়ার অভিযোগ

মাগুরা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০০:৩১, ৮ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ০৮:৪৮, ৮ ডিসেম্বর ২০২১
টিউবওয়েলের পানিতে বিষ দেওয়ার অভিযোগ

প্রতিদিনের মতো কামনা মণ্ডল ঘুম থেকে উঠে ল্যাট্রিনে যাবার পূর্বে বাড়ির টিউবয়েলে (নলকূপ) চাপ দিয়ে পানি বের করেন। কিন্তু চাপ দেয়ার পরেই দেখা যায় সাদা জল বের না হয়ে হালকা লালচে রঙের জল বের হচ্ছে। সন্দেহ হলে তিনি স্বামী অরূপ বিশ্বাসকে ডেকে তা দেখান। এরপর অরূপ বিশ্বাস চাপ দিয়ে পানি বের করলে দেখতে পান লালচে রঙের জল বের হচ্ছে। এরপর টিউবয়েলের মাথা খুলে ভেতরে দেখা যায় দানা জাতীয় কিছু জিনিস।

প্রতিবেশীদের ডেকে তা দেখালে তারা বলেন, টিউবওয়েলের মধ্যে ফুরাডান দানাদার (বিষ) রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বাড়ির লোকজনকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে কে বা কারা রাতের আধারে টিউবওয়েলের ভেতরে ফুরাডান মিশিয়ে রেখেছিল।

আজ মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) বিকালে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ৬ নং কাদিরপাড়া ইউনিয়নের দোরান নগর গ্রামে কালিপদ বিশ্বাসের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানতে চাইলে কালিপদ বিশ্বাসের পুত্রবধূ কামনা মণ্ডল  বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকালে পানি নেওয়ার জন্য টিউবওয়েলে যাই। দুই-একটি চাপ দিলেই দেখতে পাই টিউবওয়েল থেকে সাদা রংয়ের জল বের না হয়ে হালকা লালচে রঙের জল বের হচ্ছে। এতে আমার মনে সন্দেহ হলে আমার স্বামী অরূপ বিশ্বাসকে ডেকে তা দেখাই। তিনিও এসে চাপ দিলেও একই ধরনের রঙিন জল টিউবওয়েল দিয়ে বের হচ্ছিল।’

অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘আমার সন্দেহ হলে প্রতিবেশীদের ডেকে দেখাই। তাদের পরামর্শ মোতাবেক টিউবওয়েল খোলা হলে দেখা যায় টিউবওয়েলের ভিতরে দানা জাতীয় কিছু পড়ে আছে।’

দানা জাতীয় জিনিসগুলো ফুরাডান বিষ বলে সবাই মতামত ব্যক্ত করেছেন বলে তিনি জানান। বাড়ির লোকজনকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই কেউ রাতের আধারে এ কাজটি করে থাকতে পারে বলে অরূপ বিশ্বাস ধারণা করছেন।

প্রতিবেশী কলেজ শিক্ষক দীনেশ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে অনুপ বিশ্বাস আমাকে ডাক দিলে আমরা কয়েকজন তার বাড়িতে এসে দেখতে পাই টিউবওয়েল দিয়ে লালচে রঙের জল বের হচ্ছে। পরে আমাদের সবার ধারণা হয় টিউবওয়েলের মধ্যে কেউ ফুরাডান বিষ দিয়ে রেখেছিল।’

শ্রীপুরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘ফুরাডান উচ্চমাত্রার দানাদার জাতীয় বিষ। এটি পোকামাকড় দমনের জন্য ক্ষেত খামারে ব্যবহার করা হয়। মানুষ এটা খেলে বা কোনোভাবে মানুষের পেটে গেলে তাতে মানুষের মৃত্যু অবধারিত।’

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ওসি সুকদেব রায় বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। কারা কেন এ বিষয়টি ঘটিয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।’

শাহীন/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়