ঢাকা     বুধবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৬ ১৪২৮ ||  ১৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চোখ জুড়ানো সর্ষে ক্ষেতে এখন শুধুই হাহাকার

সাভার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৩, ৮ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১০:৩৬, ৮ ডিসেম্বর ২০২১
চোখ জুড়ানো সর্ষে ক্ষেতে এখন শুধুই হাহাকার

‘কয়েকদিন আগেও সরিষা ক্ষেতের দিকে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যেতো। সবুজ-হলুদের লীলা দেখতে ছুটে আসতাম ক্ষেতে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সব সরিষার চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ক্ষেতের দিকে তাকালেই হাহাকার দেখছি।’

কথাগুলো বলছিলেন ঢাকার ধামরাইয়ের সরিষা চাষি জয়নাল মিয়া। চলতি মৌসুমে এক একর জমিতে সরিষা চাষ করেছিলেন তিনি। শুধু জয়নাল নয়, উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে শতাধিক কৃষক একই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে ৫৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষে ১১ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো। তবে কিন্তু ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে সরিষার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন বলে মন্তব্য কর্মকর্তাদের।

উপজেলার কুশুরা, সোমভাগ, কুল্লা, চৌহাট, বালিয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা হয়।

তারা বলেন, ‘রবি মৌসুম সরিষার ভালো ফলন হয়েছিলো। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে পানি জমে গাছগুলো মাটিতে নেতিয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি না সরলে গাছে পচন ধরায় সব নষ্ট হয়ে যাবে। তাতে পুরোটাই ক্ষতি হবে। বৃষ্টির আগেও ফসলি জমিতে চোখ রাখলে প্রাণ জুড়িয়ে যেতো। আর এখন হঠাৎ ঝড়বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হলো। অসহায়ের মতো দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই।’

মাখুলিয়া এলাকার কৃষক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এক একর জমিতে সরিষা চাষ করেছি। এতে কয়েক মণ সরিষার ফলন হতো। কিন্তু সব আশা শেষ হয়ে গেছে।’

কুশুরা ইউনিয়নের কৃষক মো. জসীম বলেন, ‘আমি প্রতি বছর সরিষা চাষ করি। ফলন ভালো হয়। প্রচুর দর্শনার্থী আসেন ক্ষেত দেখতে। এই সরিষা বিক্রির টাকা দিয়েই প্রতিবছর ধান চাষ করি। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আমার মাথায় হাত। এখন এক মুষ্টি সরিষাও বাড়ি আনতে পারবো কি না সন্দেহ। আমার আরেকটা চাষের সম্বলও শেষ হয়ে গেলো।’

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো.আরিফুল হাসান বলেন, ‘ধামরাইতে ৫৫০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সরিষা চাষ করা হয়েছে। এসব জমির ফলনের জন্য উচ্চ ফলনসীল বীজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। এতে অন্তত ১১ হাজার মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছিলো। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেটা কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি শেষে এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হবে।  জমিতে কোনো ছত্রাকের আক্রমণ হয় কি না দেখা হবে। ক্ষয়ক্ষতি পোষাতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাব্বির/বুলাকী

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়