ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ১ ১৪২৯ ||  ১৭ মহরম ১৪৪৪

বৃষ্টিতে ইটভাটায় কোটি টাকার ক্ষতি

মাগুরা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:২৫, ৯ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৭:৪৪, ৯ ডিসেম্বর ২০২১

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে ও তিন দিনের বৃষ্টিতে মাগুরায় ইটভাটার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাতে জেলার অর্ধশতাধিক ইটভাটার কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। ভাটার মালিকরা জানান, অগ্রহায়ণের শেষ দিকে অনাকাঙ্খিত এ বৃষ্টিতে তাদের কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলার বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, বৈরি আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বেকার হয়ে পড়েছেন ইটভাটার শ্রমিকরা। প্রত্যেক মৌসুমে এসব ভাটায় কয়েক দফায় ইট তৈরি করা হয়। সে অনুযায়ী ছোট-বড় মিলে গড়ে প্রতিটি ভাটায় বছরে ২০ থেকে ৫০ লাখ ইট তৈরি হয়। 

মাগুরা জেলা ইটভাটা মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলায় ছোট-বড় সবমিলে অন্তত ৭২ টি ইটভাটা রয়েছে। এক হাজার কাঁচা ইট তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং এক লাখ ইট তৈরিতে খরচ হয়েছে  প্রায় ৩ লাখ  ৫০ হাজার টাকা। বেশ কয়েকদিন ধরে ভাটা মালিকরা কাঁচা ইট তৈরি করে রোদে শুকিয়ে তা পোড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

কিন্তু বৃষ্টির পানিতে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে সব ইট। এতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ইটভাটা মালিকদের ইট পোড়ানোর কাজ আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে নতুন করে এ বছর ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করা নিয়ে সংশয়ে আছেন। ফলে দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে ইটের সংকট দেখা দিতে পারে। মাটি কেনা, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ সবই বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে বলে দাবি ইট ভাটার মালিকদের। 

জেলা সদরের শাপলা ব্রিকসের মালিক আলমগীর হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘তিন দিনের বৃষ্টিতে প্রায় পাঁচলাখ কাঁচা ইটের  ক্ষতি হয়েছে। এই ইট গুলো আর কাজে আসবে না। শুরুতে বড় ধরণের ক্ষতি এই মৌসুমে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ বছর বড় অঙকের লোকসান গুনতে হবে।’

রামনগর এলাকার এএনবি ইটভাটার ম্যানেজার শাহ আলম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে তৈরি করা ইট রোদে শুকানো হচ্ছিল। কিন্ত অসময়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজে ইটগুলো গলে মাটিতে মিশে গেছে। বিনষ্ট কাঁচা ইটের পরিমাণ সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসহ মাঠ পরিস্কার করতে অতিরিক্ত অনেক টাকা খরচ করতে হবে।’

মহম্মদপুর উপজেলার কানুটিয়া এলাকার তুবা ব্রিকসের মো. গোলাম আজম সাবু বলেন, ‘এমনিতে নানা কারণে ইটের ব্যবসা এখন আর আগের মতো লাভজনক নেই। অকালে ভারি বৃষ্টিতে ইটভাটার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নানা উপকরণ, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিসহ এই ক্ষতি পুষিয়ে অনেকের পক্ষে ইট উৎপাদনে ফিরে আসা কষ্টকর হয়ে উঠবে।’
 
মাগুরা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টিতে ইটভাটা মালিকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ না পেলে অনেকেই আর ইট তৈরি করতে পারবেন না।’

শাহীন/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়