ঢাকা     শুক্রবার   ২১ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৭ ১৪২৮ ||  ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ভেড়ামারায় ব্যবসায়ীর মরদেহ ও রহস্যময় চিরকুট

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৩৯, ৯ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৩:৪৯, ৯ ডিসেম্বর ২০২১
ভেড়ামারায় ব্যবসায়ীর মরদেহ ও রহস্যময় চিরকুট

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পাওনা টাকা না পেয়ে সিরাজুল ইসলাম (৬০) নামের এক ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে ভেড়ামারা উপজেলার নওদাপাড়া এলাকার সজনী সিনেমা হলের পিছনের নিজ ঘর থেকেই ভেড়ামারা থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। 

নিহত সিরাজুল ইসলাম নওদাপাড়া এলাকার মৃত নবী শেখের ছেলে। 

তার মরদেহের পাশে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। এতে লেখা, ভেড়ামারা শহরের বামনপাড়া কাস্টমস অফিসের সামনে মৃত ছবেদ মেন্বারের ছেলে আ. সালাম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের বাবুপুরের মনিরুজ্জমান মনিরের নিকট ৩০ লাখ টাকা পাই। টাকা না দিয়ে মনির ও সালাম এক হয়ে আমার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করতে থাকে। তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও টাকা না দেওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিলাম। 

নিহতের পরিবারের দাবী, হয়তো এই হাতের লেখা সিরাজুল ইসলামের না। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, এটা মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি দাবী জানিয়েছে পরিবার। 

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

চিরকুটে অভিযুক্ত আব্দুল সালাম বলেন, আমার কাছ থেকে কোন টাকা তিনি পান না। তবে চাপাইনবাবগঞ্জ এলাকার মনিরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির সাথে পাথরের ব্যবসা ছিলো সিরাজুল ইসলামের। পরবর্তীতে তারা ব্যবসায়ে লোকসান করেন। এ নিয়ে গত একমাস আগে শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা সিরাজুল ইসলাম ফেরত দিবে মনিরুজ্জামানকে- এমন সিদ্ধান্ত হয়।  বুধবার (৮ ডিসেম্বর) এ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিলো। এর মধ্যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তার সঙ্গে আমার আর্থিক কোন লেনদেন নাই।

এ বিষয়ে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ব্যবসায় মনিরুজ্জামান বলেন, মূলত আমি উনার কাছে ব্যবসায়ী লেনদেনের টাকা পাই। গতরাতে তিনি আমাকে জানান, সকাল ১০ টায় টাকা দিয়ে দেবেন। তিনি এবং আব্দুস সালাম একসঙ্গে ব্যবসা করতেন। তাদের মাঝে আর্থিক সমস্যা থাকতে পারে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে আমি ব্যবসা করি। তার হাতের লেখা আমি চিনি। চিঠিতে যে লেখা সেটা অন্য কারো হাতের লেখা। আর আমার মনে হয় তিনি আত্মহত্যা করেননি। এর পিছনে অন্য কোন রহস্য রয়েছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত করা প্রয়োজন।

কাঞ্চন/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়