ঢাকা     শনিবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ১৫ ১৪২৮ ||  ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নীলফামারীর বীরাঙ্গনা মায়েরা ভালো নেই 

নীলফামারী প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৭, ৯ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৪:৫৮, ৯ ডিসেম্বর ২০২১
নীলফামারীর বীরাঙ্গনা মায়েরা ভালো নেই 

মোছা. আজিমা বেগম (৭১)। তার বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের গোসাইগজ্ঞ এলাকায়। এ বয়সেও অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোন রকমে দিন পার করেন। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে হানাদার বাহিনীর পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন।  

বীরাঙ্গনা মাতা আজিমা বেগম আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর হইলেও হামরা স্বাধীনতার স্বাদ এলাও (এখনো) পাই নাই। দুইটা বেটিক বিয়াও দিছি। স্বামীও মারা গেইছে কয়েক বছর হুইছে। অন্যের বাড়িত কাম করি দুই মুঠ খাবার জোগাড় করিবার পাও। না পাইলে না খেয়া থাকো।  কাহো হামার খোঁজ নেয় না। হামরা নাকি মুক্তিযোদ্ধার মতো স্বীকৃতি পামো। ওমার (ওনাদের) মতো ভাতা পামো। সবাই আশ্বাস দেয়। কিন্তু কামতো হয় না।

তিনি বলেন, সারা বছর হামার কাহো খবর নেয় না। ডিসেম্বর ও মার্চ মাস আসিলে ৭১ সালের কাথা (কথা) শুনিবার জন্যে হামারঠে অনেকে আইসে।

আজিমার মতো বীরাঙ্গনা ছাবিয়ারও (৬৮) একই আর্থিক অবস্থা। তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার উপর নির্যাতনের বর্ণনা করে জানান, ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে কুখ্যাত রাজাকার রহমান চোরের নেতৃত্বে পাকহানাদাররা নীলফামারীর ডোমার উপজেলা কেতকীবাড়ি এলাকায় হামলা চালায়। হানাদার বাহিনীর হামলায় সবাই পালিয়ে যেতে পারলেও তিনি ধরা পরে যান। পাক-বাহিনীর সদস্যরা তার উপর হিংস্র পশুর মতো নির্যাতন করে। তারা চলে গেলে পরিবারের লোকজন স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে তার চিকিৎসা করে। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হলে একই এলাকার আতিয়ার রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সংসারে এক ছেলে ও তিন মেয়ে তার। মেয়েদের কোন রকমে বিয়ে দিয়ে দিনমজুর ছেলের সঙ্গে থাকেন তিনি। দরিদ্র ছেলে খুব কষ্টে সংসার চালায়।

তাদের মতো জামিলা বেগম, জাহেরা বেগম, রহিমা বেগমসহ নীলফামারী জেলায় ৩২ জন বীরাঙ্গনা মাতা খুবেই কষ্ট রয়েছে। কেউ ছেলের সংসারে। আবার কেউ বৃদ্ধ এ বয়সেও কাজ করছেন।

বীরাঙ্গনাদের নিয়ে গবেষণা করা অপরাজেয় বাংলা ফাউন্ডেশনের নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি গবেষক আল-আমীন রহমান জানান, জেলার ৩২ জন বীরাঙ্গনা মা খুবেই কষ্টে রয়েছেন। সরকার তাদের স্বীকৃতি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু এখনো তারা স্বীকৃতি পায় নাই। তিনি দ্রুত তাদের স্বীকৃতি ও মাসিক ভাতা দেওয়ার দাবী করেছেন।

বীরমুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ হোসেন জানান, মূলত বীরাঙ্গনাদের সঠিক তালিকা করা এখনো হয় নাই। জেলার মধ্যে ডিমলা উপজেলার বীরাঙ্গনাদের বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় হতে তদন্ত হয়েছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারাও তাদের স্বীকৃতির জন্য কাজ করছি।

ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন/টিপু

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়