ঢাকা     শনিবার   ২১ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৯ ||  ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩

ভাটিয়াপাড়া মুক্ত দিবস

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০১:৩০, ১৯ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ০১:৩৫, ১৯ ডিসেম্বর ২০২১
ভাটিয়াপাড়া মুক্ত দিবস

সারা দেশ যখন বিজয়ের আনন্দে উল্লসিত সে সময়ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দেশ স্বাধীন হওয়ার তিনদিন পর অথ্যাৎ ১৯ ডিসেম্বর মিত্র ও মুক্তি বাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমণে আত্মসমার্পণে বাধ্য হয় পাক সেনারা। পতন ঘটে ভাটিয়াপাড়া ওয়্যারলেস ষ্টেশন মিনি ক্যান্টনমেন্টের। এর ফলে পুরোপুরি শত্রু মুক্ত হয় গোপাগলঞ্জ অঞ্চল। 

১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে এক প্লাটুন সশস্ত্র পাকসেনা কাশিয়ানীর অদূরবর্তী ভাটিয়াপাড়া ওয়ারলেস সেন্টার দখল করে অবস্থান নেয়। রাজাকারদের সহায়তায় তারা ১৩ এপ্রিল আওয়ামী লীগ নেতা কে এম আমজাদ হোসেন, বাগঝাপা গ্রামের মোক্তার শেখ, মাজড়ার হাবিবুর রহমান বাবু মিয়ার বাড়িসহ শতাধিক মানুষের ঘর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পাক সেনারা মাজড়া গ্রামের জহির উদ্দিন মৌলভীর ছেলে বেলায়েত, যদু মিয়ার স্ত্রী ও বাগঝাপা গ্রামের আক্কাস শেখকে গুলি করে হত্যা করে। পরদিন তারা  পোনা গ্রামের ৬টি বাড়িতে আগুন দেয় ১১ জনকে ধরে নিয়ে হত্যা করে।

মে মাসের শেষ দিকে খালিদ ফিরোজ ও আক্কাস হোসেনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ভাটিয়াপাড়ায় গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। জুলাই-আগষ্ট মাসে ভারত থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা এলাকায় প্রবেশ করে যুদ্ধ শুরু করে। 

ওড়াকান্দি মিড হাইস্কুলে কাশিয়ানী মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল গঠন করে ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। ক্যাম্পের দ্বায়িত্বে ছিলেন ইসমত কাদির গামা। এছাড়াও রামদিয়া এসকে কলেজ, সাজাইল গোপী মহন হাইস্কুল, রাতইল স্কুল, জয়নগর স্কুলসহ অনেক স্থানে মুক্তিযুদ্ধারা ক্যাম্প স্থাপন করে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেন।

ভাটিয়াপাড়ার ওই মিনি ক্যান্টনমেন্টটি দখলে নিতে ৬ নভেম্বর দুটি যুদ্ধ হয়। দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধ হয় ১৬ই ডিসেম্বর। ৩ দিন যুদ্ধের পর ১৯ ডিসেম্বর খুব ভোরে নড়াইল জেলার দিক থেকে ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর মঞ্জুর, নড়াইল জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন হুদা, লে. কর্ণেল জোয়ান, কামাল সিদ্দিকী, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরের দিক থেকে ক্যাপ্টেন ইসমত কাদির গামা ও বাবুলের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ভাটিয়াপাড়ার মিনি ক্যান্টনমেন্টে আক্রমন চালান।

মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাত্মক হামলায় ওই দিন সকাল ১০ টার দিকে ৬৫ জন পাক সেনা আত্মসর্মপণ করে। এ যুদ্ধে ৬ জন পাক সেনা নিহত হয়। অপরদিকে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা নিহত ও আহত হয়। এরপর ভাটিয়াপাড়ার ওয়্যারলেস ষ্টেশনের মিনি ক্যান্টনমেন্টে উড়ানো হয় লাল-সবুজের পতাকা। 

বাদল/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়