ঢাকা     শনিবার   ২১ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৯ ||  ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও যাচ্ছে অষ্টগ্রামের পনির

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০৮, ৩১ ডিসেম্বর ২০২১  
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও যাচ্ছে অষ্টগ্রামের পনির

‘হাওর-বাওর মাছে ভরা, অষ্টগ্রামের পনির সেরা।’ খাবার হিসেবে অষ্টগ্রামের সুস্বাদু পনির আজ জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য। তাইতো রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে এই পনির। বর্তমানে এই পনির রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাজ্য, কাতার, সৌদি আরবসহ আরো কয়েকটি দেশে। 

কিশোরগঞ্জের হাওরে বেড়াতে গেলে খাদ্য রসিকরা পনিরের খোঁজ করেন। ফলে কমবেশি সবার পাতেই উঠতে শুরু করেছে পনির। অতিথি আপ্যায়নে পনির পরিবেশন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে কিশোরগঞ্জে। এই পনির এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সমাদৃত হচ্ছে। প্রযুক্তির সুবাদে পুষ্টিকর এ খাবারের সুনাম অনলাইনেও ছড়িয়ে পড়েছে। তাই দেশের ভেতর বা বিদেশ থেকে অনেকেই ফোনে যোগাযোগ করে কুরিয়ারের মাধ্যমেও এ পণ্যটির অর্ডার করছেন।

অষ্টগ্রামের পনিরের ঐতিহ্য প্রায় ৩০০ বছরের। বংশ পরম্পরায় কিছু পরিবার পনির তৈরির সঙ্গে জড়িত। এ খাদ্যের মূল কাঁচামাল দুধ। দুধ প্রাপ্তি ও দামের সঙ্গে পনিরের উৎপাদন ও দাম ওঠা নামা করে। পনির তৈরিতে কোনো কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর দ্রব্য ব্যবহার করা হয় না। চাহিদামতো এগুলো তৈরি করা হয়। প্রতি ১০লিটার দুধে তৈরি হয় এক কেজি পনির। প্রতি কেজি পনির বাজারে বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। 

আগে এতটা চাহিদা না থাকলেও হাওরে লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন পনিরের কদর ও চাহিদা বাড়ছে। অষ্টগ্রাম উপজেলা সদরের দোকান গুলোতেও বেচাকেনা হয় এ খাবারটি। 

পনির প্রস্তুতকারক সেলিম রেজা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর ধরে আমি এ পেশায় যুক্ত। এটি আমাদের পারিবারিক পেশা। এর আগে আমার বাবা ও দাদা পনির তৈরি করতেন। এখন আমার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও পনির বানাতে ও বিক্রিতে সাহায্য করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির এলাকা ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামে সড়ক পথ নির্মাণ হওয়ার পর থেকেই এখানকার পনিরের চাহিদা দিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজের মুখে যখন বললেন অষ্টগ্রামের পনির সেরা। তারপর থেকে সারাদেশে এটির চাহিদা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রামে পনিরের বেশি চাহিদা রয়েছে। তবে পাকিস্তান আমল থেকেই পনির লন্ডনে যায়। সিলেটের বাসিন্দা যারা লন্ডন থাকেন তারা সেটি নিয়ে যান। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা ফোনে যোগাযোগ করে কুরিয়ারের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে যান। তবে সরকারি সাহায্য হযোগিতা না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে আমাদের।’

অপর পনির প্রস্তুতকারক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পরিবার বহুদিন থেকেই পনির তৈরির পেশায় যুক্ত। এক সময় এ এলাকার অনেক পরিবার পনির তৈরির পেশায় যুক্ত ছিল। কিন্তু এখন আট-দশটা পরিবার আমরা পনির তৈরি করে জীবিকা চালাচ্ছি। কেউ কেউ সুনামগঞ্জ জেলায় গিয়ে পনির তৈরি করছেন। আমার একটি মনিহারী স্টোরও রয়েছে। বর্তমানে পনিরের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমি আমার দোকানে রেখে পনির বিক্রি করি।’ 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, ‘হাওরে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন অলওয়েদার সড়ক। প্রতি বছর দেশি-বিদেশি পর্যটক বেড়াতে যান সেখানে। এই পর্যটকদের হাত ধরে বিদেশে পনির রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এটি এখন রপ্তানিও হচ্ছে। তাছাড়া এই পণ্যটি জেলার ব্যান্ডিং হওয়ায় এখানে আমাদের অনেক পরিকল্পনাও রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাওর এলাকায় পর্যটনের সময়- পর্যটকদের জন্য ভ্রাম্যমাণ পনির বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন এবং পর্যটকরা যেন এই খাদ্য পণ্যটি সহজেই নিয়ে যেতে পারেন সে ব্যবস্থাও আমরা করছি। পাশাপাশি পনির তৈরির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের এ পেশায় আরো উৎসাহ দিতে স্বল্পসুদে ঋণসহ নানাবিধ পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’

রুমন/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়